আর্থিক অবস্থার উন্নতি করুন মাত্র একটি কাজে

আপনার খরচের হাত খুব উদার। মাসের শেষে সবসময়েই টানাটানি পড়ে যায়, টাকা জমানো তো আরও দুরের কথা। কী করতে পারেন খরচ কমাতে? একটি টিপস আপনার কাজে আসতে পারে, আর তা হলো, সব খরচ একটি খাতায় লিখে রাখা।

৩০ দিন ধরে প্রতিদিন কী কী খরচ করছেন তা লিখে রাখুন একটি নোটবুকে। তারমানে এই নয় যে সারাদিনে কত খরচ হয়েছে তার একটা যেনতেন হিসেব লিখে রাখলেন। তা নয়। বরং কখন কী কিনছেন, এর দাম কত তা একদম পাই পয়সা পর্যন্ত লিখে রাখুন। দরকার হলে রিসিটের ছবি তুলে রাখুন। কী কী কিনছেন চট করে তার ছবি তুলে ফেলুন। মুদি দোকানে বাজার করুন, বা সুপারশপ থেকে মেকআপ কিনুন, কি অনলাইন থেকে জামা কিনুন- সবকিছুই লিখে রাখুন।

এভাবে খরচের হিসেব রাখাটা অনেকোটা ডায়েট করার সময়ে ক্যালোরির হিসেব রাখার মতো। দুইদিকেই আপনি নিজের সিদ্ধান্ত নিয়ে ভাবার সুযোগ পাচ্ছেন। এ কাজটি করলে পাঁচটি উপায়ে আপনার উপকার হবে-

১) লিখে রাখলে খরচটা চোখে পড়ে

প্রয়োজনের অতিরিক্ত একটি জিনিস কিনছেন, এরপর সময় নিয়ে তা লিখে রাখছেন। এরপর প্রতিবার অন্য খরচ করার সময়ে আগের খরচগুলো চোখে পড়ছে। এতে আপনি নিজেই বুঝতে পারবেন আপনি কোন কোন জায়গায় আজেবাজে খরচ করছেন। খরচ কতো বেশি হচ্ছে, সেটা দেখেও অনেকেই ধাক্কা খান। ফলে পরের দিন একই রকমের বাজে খরচ করার আগে আপনি দ্বিতীয়বার চিন্তা করবেন।

২) অপরাধবোধে ভুগবেন আপনি

অতিরিক্ত খরচ করার পর সাধারণত আর তা নিয়ে মাথা ঘামাই না আমরা। কিন্তু খরচ লিখে রাখলে বারবার তাতে চোখ বুলানোর সুযোগ পান আপনি। এতে মনে হয় ‘ইশ! কেন যে এত খরচ করতে গেলাম!’ মাসের শেষে পকেটে টান পড়লে আবারও এই খরচের তালিকায় চোখ যাবে এবং আপনার খরচ কমানোর ইচ্ছেটা আরও শক্ত হবে।

৩) এক মাস যথেষ্ট নয়

বাড়ি ভাড়া, পানি-বিদ্যুতের বিল, বাজার খরচ, ইন্টারনেট ও ডিশের বিল, ডাক্তার খরচ এবং মোবাইল ফোনের খরচ- এসব খরচ প্রতি মাসে প্রায় একই থাকে। এর বাইরে যেসব খরচ করছেন, সেগুলোই আপনার নিয়ন্ত্রণে রাখা উচিত। দেখা যায়, অনেকের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট খরচের বাইরে অতিরিক্ত খরচটাই বেশি হয়ে যায়। এটা এক মাসে বোঝা সহজ নয়। কতটুকু খরচের মাঝে নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখতে চান, তা বুঝতে অন্তত ছয় মাস সময় নিয়ে খরচ লিখে রাখার কাজটি করা উচিত।

৪) টাকা জমানোর দিকে নজর রাখা উচিত

টাকা খরচের তালিকা রাখলে আপনি বুঝতে পারবেন কোন কোন ক্ষেত্রে খরচ আপনি একেবারেই বাদ দিতে পারেন। যেমন দামী রেস্টুরেন্টে খাওয়া, বা ঘন ঘন ব্র্যান্ডের জুতো কেনা। এসব খরচ বাদ দিলে সেই টাকাটা আপনি জমা করে ফেলতে পারেন।

৫) উপায়টি আসলেই কাজ করে

টাকা জমানো বা খরচ কমানোর অনেক অনেক উপায় রয়েছে। কিন্তু সেসব উপায় সবার জন্য কাজ করে না। খরচ লিখে রাখার এই উপায়টি কিন্তু শতভাগ কাজ করবে সবার জন্যই। আপনি যদি আর্থিকভাবে তেমন সমস্যাতেও না থাকেন, তারপরেও আপনার জীবনটাকে আরেকটু গুছিয়ে নিতে এই উপায়টি দারুণ উপকারে আসবে।

সূত্র: পপসুগার