আর কত লাশ চাই ওদের

rupcare_savar1

গত কয়েকদিন ধরে পত্রিকা আর টিভি খুললেই চারিদিকে শুধু লাশ আর লাশ। সাভার ট্র্যাজেডির পর থেকে দেশের এবং বিশ্বের গণমাধ্যমগুলোর শিরোনাম বাংলাদেশকে নিয়ে। এতে যে বাংলাদেশের পরিচিতি বাড়ছে, এ নিয়ে কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু তা নেতিবাচক অর্থে। এই ন্যাক্কার জনক ঘটনা আমাদেরকে জাতি হিসাবে কলঙ্কিতই করে তুলছে। অবশ্য বরাবরই বাংলাদেশকে সবাই এভাবেই দেখে অভ্যস্থ। অগ্নিকান্ডে শত শত নিহত, ভবন ধসে শ্রমিক নিহত কিংবা রাজনৈতিক সহিংসতা। স্বাধীনতার পর থেকে খুব কম সময়ই বিশ্ব বাংলাদেশকে ইতিবাচক ভাবে চিনেছে।

সেদিন বিদেশী এক গণমাধ্যমে একজন বলছিলেন যে, “একটি স্বাধীন দেশে কীভাবে মালিকপক্ষ তার শ্রমিককে দাস হিসাবে ব্যবহার করছে?” অবাক লাগে, এখানে আসলে নিজের স্বার্থই সব। মুনাফার জন্য তারা হাজার হাজার মানুষকে নিশ্চিত মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিতেও দ্বিধা করেনা। এরা মনে করে সামান্য কিছু টাকার বিনিময়ে সবাইকে কিনে ফেলেছে। অথচ লক্ষ্যকোটি মানুষকে শোষণ করেই এরা আজ বিশাল প্রসাদরাজ্য গড়ে তুলেছে।

আজ কতো সুচিত্রা, সখিনা আর নাসরিনদের স্বপ্ন ভঙ্গের হৃদয় বিদারক দৃশ্য দেখে সারাদেশ কাঁদছে। কিন্তু এর পরও কি সেই মুনাফালোভীদের মানবতার বোধদয় হবে? নির্মম হলেও ইতিহাস কিন্তু না উত্তরটিকেই সমর্থন করে। করণ তা নাহলে স্পেক্ট্রাম, তাজরিন ট্র্যাজিডির পর আর শত শত লাশ দেখতে হতো না। হয়তো আবার কিছু সাহায্য ও দান খয়রাতের পর সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে যাবে। দেশের অর্থনীতির চাকা আবারো জোরালো ভাবে ঘুরবে। কোটা ও শুল্কমুক্ত সুবিধা নিয়ে বাংলাদেশের গার্মেন্টস্‌ শিল্প মানে মালিকরা আরো এগিয়ে যাবে। কিন্তু পরিবর্তন হবেনা নাসরিনদের ভাগ্যের।

এদেশ স্বাধীন হয়েছে ত্রিশ লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে। আজ স্বাধীনতার ৪০ বছর পার হয়ে গেলেও এখনো কিছু হলেই শুধু লাশ আর লাশ। জীবনের মূল্য কি এতোই সস্তা? এদেশ থেকে কি মানবতা বোধ একেবারে নাশ হয়ে গেছে। আমার মনে হয় তা হয়নি। যদি তাই হতো তাহলে নিজের জীবন বাজি রেখে দূর্গতদের বাঁচাতে সাধারণ মানুষ এভাবে ঝাঁপিয়ে পড়তে পারতো না। এই সব সাহসী মানবতাবাদীদের জন্য অন্তর থেকে না বলতেই স্যালুট চলে আসে। আর সেইসব অমানুষ যাদের কাছে জীবনের চেয়ে নিজেদের স্বার্থ অনেক মূল্যবান তাদের একটা কথাই বলে ধীক্কার দিতে ইচ্ছা করে, “আর কতো লাশ চাই তোদের”।

বিধাতা সব দূর্গত মানষের কষ্ট লাঘব করুন আর সেইসব খুনিদের শাস্তি দিন এই প্রত্যাশাই রইলো।

লেখক: দিদার খান
ই-মেইল: didars@gmail.com