এই সময়ের স্টাইলে পূজার পোশাকে সেজে উঠুন

14484627_10153853557180373_2700227975876979952_n

রৌদ্রছায়ার লুকোচুরি খেলার মাঝেই তরতরিয়ে বাড়ছে কাশফুলের দল। আকাশে কালো মেঘের রক্তচোখ উপেক্ষা করে পেঁজা তুলোর মতো সাদা মেঘের ভেলা ঠিকই ভেসে চলেছে। মাঝে মধ্যে বৃষ্টির বেরসিক উৎপাত স্বত্বেও প্রকৃতির উচ্ছলতাই জানিয়ে দিচ্ছে শারদ উৎসবের আগমণী বার্তা। হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা রয়েছে উৎসবের আমেজে। শারদীয় পুজা মানেই নারীদের শাড়ি ও পুরুষদের ফতুয়া, পাঞ্জাবী। এখন অনেক নারীই শাড়ির পরিবর্তে লেহেঙ্গা, লম্বা কুর্তা, লং স্কার্ট পরে থাকেন।

এই উৎসবমুখর পরিবেশকে উপেক্ষা করার মতো কোন যথাযথ কারণ নেই। সে কারণে আপনি যদি সমসাময়িক ফ্যাশনে অভ্যস্ত হয়ে থাকেন তাহলে কিছুটা সাদাসিধে পোশাকও বেছে নিতে পারেন। এজন্য বেছে নিতে পারেন উজ্জ্বল রঙের প্রিন্টের পোশাক।

মূলত এসব ঐতিহ্যবাহী দিনগুলোতে মানুষ অনেক ফ্যাশনেবল থাকতেই পছন্দ করে থাকেন। তবে যেভাবেই আপনি থাকতে পছন্দ করেন না কেন, ঐতিহ্যের বাইরে আপনি থাকতে পারবেন না। চিরন্তন ধারার বাইরে না গেলেও আপনি কিন্তু রঙ, স্টাইল এবং নিজের পছন্দ নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা ঠিকই করতে পারেন।

আপনি যদি স্টাইলে প্লেফুল লুক নিয়ে আসতে চান তাহলে শাড়ি পরতে পারেন, তবে একটু অভিনব স্টাইলে এবং সাথে গতানুগতিক সোনা ও হীরার গহনা না পরে পরতে পারেন মাটির গহনা।

ষষ্ঠী থেকে দশমী, কুমারী পূজা থেকে সিঁদুর খেলা, ধুনুচি নাচ থেকে প্রসাদ বিতরণ, প্রতিদিন সন্ধ্যা আর সকালের অঞ্জলি থেকে ভাসান- প্রতিটি উপলক্ষ্যকে বর্ণময় আর আনন্দময় করতে কোন ত্রুটি রাখে না কোন ফ্যাশন হাউজ। এবারও তার ব্যতিক্রম নয়। বিভিন্ন ধরণের ভ্যালু অ্যাডেড মিডিয়ার ব্যবহারে পোশাককে দৃষ্টিনন্দন করার প্রয়াস চলে সবখানে। তাহলে আসুন দেখে নেই দেশিয় ফ্যাশন হাউজগুলো এই পূজাকে ঘিরে কি সাজে সেজেছে।

আড়ং:

আড়ং পূজা কালেকশনের মূল ভাবনায় ছিলো উৎসবের বর্ণিলতা আর সুতি, মসলিন এবং হাফ সিল্কে ফুলেল মোটিফের প্রাধান্য। সালোয়ার কামিজ এবং শাড়িতে চিরায়ত লাল সাদার পাশাপাশি রয়েছে সবুজ, হলুদ এবং মেজেন্টা রঙের ছোঁয়া। ছেলেদের পাঞ্জাবি ধুতি সেটের সাথে মিশেল ঘটেছে হাল ফ্যাশনের ট্রেন্ডি কোটির। এবারের নতুন সংযোজন আড়ং পূজা গিফট বক্স। পূজার ঐতিহ্যবাহী নানান সামগ্রীর সমন্বয়ে সাজানো হয়েছে এই গিফট বক্স।

অঞ্জন’স:

হিন্দু ধর্মালম্বী বাঙালির সবচাইতে বড়ো অনুষ্ঠান শারদীয় দুর্গাপূজা। পূজার পোশাক মানেই সাদা-লালপেড়ে শাড়ি। আর সাদা হলো পবিত্রতা ও শান্তির প্রতীক। এই দুয়ের মিলে ফুটে ওঠে পূজার চিরন্তর রূপ। তাই উৎসবের রঙে নিজেকে সাজাতে পূজার বর্ণিল কালেকশন এনেছে অঞ্জন’স। এবারের পূজোর কালেকশনে থাকছে শাড়ি, পাঞ্জাবি, লং ফতুয়া, সালোয়ার কামিজ ও শিশুদের পোশাক।

রঙ বাংলাদেশ:

রঙ বাংলাদেশ সবসময়েই ভোক্তাদের ক্রয়সাধ্যকে বিবেচনায় রাখে। এবারও তার ব্যতিক্রম ঘটছে না। পূজা কালেকশনে রঙ বাংলাদেশ-এর শাড়ি কেনা যাবে ৫০০-১০,০০০ টাকার মধ্যে। ছেলেদের পোশাকের দাম ৮০০ থেকে ৫,৫০০ টাকা আর বাচ্চাদের ৩০০ থেকে ২,০০০ টাকা। গয়না রয়েছে ২৫০ থেকে ৩,৫০০ টাকার।

নিপুন:

ফ্যাশণ হাউজ নিপুন এবার হাজির হয়েছে পূজার ফ্যাশন নিয়ে। সুতি, লিলেন, ভয়েল, সুতিস্ল্যাব, সুতি হ্যান্ডলুম, অ্যান্ডি ও জয়সিল্ক কাপড়ে নিপুন সাজিয়েছে তাদের পূজার পসরা। সালোয়ার কামিজের পাশাপাশি নিপুনের পূজোর আয়োজনে আরও থাকছে কুর্তি, শাড়ি, ছোটদের এবং কিশোরীদের জন্য সালোয়ার কামিজ, মেয়ে শিশুদের জন্য ফ্রক, শার্ট, পাঞ্জাবী। এসব পোশাক পাওয়া যাবে নিপুনের ঢাকা, চট্রগ্রাম, সিলেট সহ প্রতিটি শো রুমে।

মেনজ ক্লাব:

তারুণ্যের ব্র্যান্ড মেনজ ক্লাব পূজা এবং গরমের এ সময়টায় কেনাকাটায় ছাড় দিচ্ছে। উৎসব এবং দৈনন্দিন ফ্যাশনে পছন্দের পণ্যে নিজেকে আরো ট্রেন্ডি করতেই গ্রাহকদের জন্য এই সুযোগ।
পূজার মূল্যহ্রাস অফারে মাসব্যাপি মেনজ ক্লাবের সকল ফরমাল এবং ক্যাজুয়াল পোশাকে সর্ব্বোচ্চ ৫০ ভাগ ছাড়ের সুযোগ থাকছে ।

শ্রদ্ধা:

বিশ্বরঙ এর শাখা হাউজ হচ্ছে শ্রদ্ধা। দুর্গাপূজায় এবারের ‘বিশ্বরঙ’-এর আয়োজন হয়েছে বৈচিত্র্যময়। দুর্গাপূজার এবারের আয়োজনে রয়েছে বৈচিত্র্য। পোশাকে এসেছে দূর্গাদেবীর ত্রিশুল ও মন্ত্র দিয়ে সাজানো বিভিন্ন নকশার দিয়ে তৈরি শাড়ি, পাঞ্জাবী, ফতুয়া, উত্তরীয় ইত্যাদী। ‘শ্রদ্ধা’য় দুর্গাপূজায় বিশেষ আয়োজনের পোশাক গুলোতে অফহোয়াইট, সাদা, ধূসরসহ অনেক অফটোনের রং-এর পাশাপাশি উৎসবের রং হিসেবে লাল-সাদা, হলুদ, কমলা, মেজেন্টা প্রভৃতি রং ও ব্যবহার করা হয়েছে।

কে ক্র্যাফ্ট:

সাজ-সজ্জা রুচি ও ভালো লাগার বহিঃপ্রকাশ। তবুও যেহেতু এটি ধর্মীয় উৎসব, তাই ধর্মীয় ট্রাডিশনকেই গুরুত্ব দেয়া হয়। ঐতিহ্যগতভাবে এ উৎসবের সামঞ্জস্যপূর্ণ রং ও বৈচিত্র রয়েছে। ‘শারদীয় দুর্গাপূজার’ প্রতিটি দিনের আনুষ্ঠানিকতার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ পোশাক রয়েছে ফ্যাশন হাউস কে ক্র্যাফটের কালেকশনে। যেমন- নতুন নতুন ডিজাইনের শাড়ি, সালোয়ার- কামিজ, পাঞ্জাবি, লেডিস টপস, সিঙ্গেল কামিজ, শার্ট, টি শার্ট, বাচ্চাদের পোশাক।

বিহঙ্গ:

ঐতিহ্য ও ঋতু বৈচিত্রের কথা চিন্তা করে ফ্যাশন হাউজ বিহঙ্গ বেশ কিছু স্টাইলের পাঞ্জাবি এনেছে। ঋতু বৈচিত্র্যতার কারণে এবারের পূজা হবে মেঘ বৃষ্টির লুকোচুরিতে এবং ভ্যাপসা গরমে। তাই আবহাওয়া বিবেচনায় পূজা উৎসবে ফ্যাশন হাউস বিহঙ্গ বাজারে এনেছে হাতের কাজের শর্ট পাঞ্জাবি।

সুহৃদ:

বিশ্বস্ত হোম ডেলিভারির প্রতিষ্ঠান সুহৃদ দুর্গা পূজা ও এই শরৎ ঋতুকে সামনে রেখে এবার ফ্যাশন সচেতন এবং উঠতি মডেলদের পছন্দ ও চাহিদার কথা মাথায় রেখে এক্সক্লুসিভ ডিজাইনের টি-শার্টের এক বড় কালেকশন বাজারে ছেড়েছে। বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠান সুহৃদ পূজার উৎসবকে দ্বিগুণ করতে নিয়ে এসেছে স্মার্ট ও তারুণ্যদীপ্ত সব টি-শার্ট।

রঙ জুনিয়র:

সময়কে রাঙানোর ঐকান্তিক ব্রতে রঙ থেকেই আজকের রঙ বাংলাদেশ। সেই মানসেই এগিয়ে চলেছে বাংলাদেশের জনাদৃত এই ফ্যাশন ব্র্যান্ড। পোশাক আর অনুষঙ্গে রাঙাচ্ছে বয়সীদের। শিশুতোষ লাইন নিয়ে রঙ বাংলাদেশ-এর সাব ব্র্যান্ড রঙ জুনিয়র এই প্রয়াসেই নামান্তর। রঙ বাংলাদেশ-এর ব্র্যান্ড ইমেজের সঙ্গে সঙ্গতি রেখেই রঙ জুনিয়রের শারদ আয়োজন বাজারে আনা হয়েছে। পাশাপাশি সচেতনভাবে মাথায় রাখা হয়েছে সববয়সী বাচ্চাদের স্বাস্থ্য ও ত্বক বান্ধব পোশাক উপহার দেয়ার বিষয়টি। এর সঙ্গে আরো নিশ্চিত করা হয়েছে কাপড় ও ব্যবহৃত উপকরণের গুণগতমান, আরাম ও সহজ ব্যবহার উপযোগীতা। শিশুদের জন্যই বিশেষভাবে ডিজাইন করা হয়েছে রঙ জুনিয়র-এর কালেকশন। রঙ জুনিয়র-এর সম্ভারে মেয়ে শিশুদের জন্য রয়েছে ফ্রক, থ্রি-পিস,শাড়ি, সিঙ্গল কামিজ, স্কার্ট, টপস ও ধুতি-কুর্তি। আর শার্ট, টি-শার্ট, পাঞ্জাবি, ধুতি ও পাঞ্জাবি আছে ছেলেদের জন্য।

বিশ্বরঙ:

‘বিশ্বরঙ’ এর পোশাকে মূলত রং এর প্রাধান্য থাকেই, এবারও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি, প্রায় সব ধরনের উজ্বল রং যেমন লাল, কমলা, ম্যাজেন্টা, নীল, হলুদ, বেগুনী, সবুজ ইত্যাদি রংয়ের বর্ণিল ব্যবহার রয়েছে। এছাড়া ব্লক, স্প্রে, টাই-ডাই, এ্যাপলিক, মেশিন এ্যামব্রয়ডারি, কারচুপি, আড়ি ইত্যাদি ব্যবহার করে ভিন্ন ভিন্ন নান্দনিক রূপ দেওয়া হয়েছে। পোশাকের মূল উপকরণ- কাপড় তৈরী হয়েছে টাঙ্গাইল, রাজশাহী, মানিকগঞ্জ, নরসিংদী, সিরাজগঞ্জ, মিরপুর, কুমিল্লা ইত্যাদি বিভিন্ন স্থানে। নিজস্ব তাঁতে বোনা কাপড়ের বুননেও আনা হয়েছে নতুনত্ব। তাঁতের বুননে তৈরী এক্সক্লুসিভ শাড়ির পাশাপাশি হাফসিল্ক, মসলিন, রেশমী কটন, ধুপিয়ান এর শাড়িতে বিভিন্ন কাজ করা হয়েছে।
এবার পূজা উপলক্ষে বিশ্বরঙ আয়োজন করেছে সেলফি প্রতিযোগিতা। বিশ্বরঙ এর পোশাক পরে সেলফি তুলে সেই ছবি বিশ্বরঙ এর ফ্যান পেইজে BISWARANG হ্যাসট্যাগের মাধ্যমে আপলোড দিলেই জিতে নিতে পারেন বিশ্বরঙ এর পুরস্কার। পোশাক কিনলে বিশ্ব রঙেরই কিনুন। পূজায় রঙিন করে নিন নিজেকে। আর ছবি তুলে জিতে নিন আকর্ষণীয় পুরস্কার।

মুনমুন’স:

চট্রগ্রামের যে ক’জন খ্যাতিমান রুচিশীল ডিজাইনার আছেন তাদের মধ্যে শাহ্তাজ মুনমুন অন্যতম । তার নিজস্ব ভাবনার প্রকাশ ঘটে পোশাকে। ফ্যাশন ডিজাইনার শাহতাজ মুনমুন বলেন, দশমীর দিন সাজ মানেই আহলাদি নববধূর সাজ। ওই দিন সাজতে হবে মনের মতো করে- যেভাবে আপনি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। এদিন সিঁদুর খেলা হয়। তাই লাল বা গাঢ় রঙের পোশাক বেছে নেওয়াই ভালো। দশমীর দিন বেছে নিন তাঁত, জামদানি বা ঐতিহ্যবাহী গরদের শাড়ি। এই দিন পোশাকের রঙের সঙ্গে মিলিয়ে লিপস্টিক বা লিপস্টিকের বদলে লাগান লিপগ্লস। পূজাতে ছেলেদের পোশাক হয় সাধারণ। রঙের খেলা হয় বলে সবাই সাদা কিংবা হাল্কা রঙের ধুতি ও পাঞ্জাবি পরতে পছন্দ করেন। পরতে পারেন মানানসই শার্ট।

facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedin