একাধিকবার বিয়ের পিঁড়িতে বসেছেন যে তারকারা

অভিনয় করতে গিয়ে গল্পের প্রয়োজনে প্রতিনিয়তই নিজেদের চরিত্র বদল করতে হয় নায়িকাদের। পর্দা জীবনের মতো নানা কারণে বাস্তব জীবনেও এদের অনেককে একাধিকবার বিয়ের পিঁড়িতে বসতে হয়েছে।

জনপ্রিয় অভিনেত্রী সুবর্ণা মুস্তাফা ১৯৮৪ সালে বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেতা হুমায়ুন ফরিদীকে বিয়ে করেন। এই দম্পতি দীর্ঘ ২৪ বছর একসঙ্গে সংসার করেন। কিন্তু নানা কারণে দাম্পত্য কলহের জেরে ২০০৮ সালে হুমায়ুন ফরিদীকে ডিভোর্স দেন সুবর্ণা। এর পরপরই তিনি বিয়ে করেন নাট্য পরিচালক ও চলচ্চিত্র নির্মাতা বদরুল আনাম সৌদকে। তার সঙ্গেই এখন সংসার করছেন এ অভিনেত্রী।

১৯৯৯ সালে পশ্চিমবঙ্গের চিত্রনির্মাতা রিঙ্গোকে বিয়ে করেন শমী কায়সার। তাদের সংসারের স্থায়িত্ব ছিল দুই বছর। নানা কারণে তাদের মধ্যে দূরত্ব বেড়ে গেলে সেই বিয়ে ভেঙে যায়। এরপর শমী বিয়ে করেন একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোহাম্মদ এ. আরাফাতকে।

ছোট পর্দার পরিচালক এজাজ মুন্নাকে প্রথমে ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন অভিনেত্রী তাজিন আহমেদ। বেশি দিন টেকেনি তাদের সেই সংসার। বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে যায় তাদের। এর পরে তাজিন বিয়ে করেন ড্রামবাদক রুমি রহমানকে।

ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন অভিনেত্রী বিজরী বরকত উল্লাহ ও সংগীত পরিচালক শওকত আলী ইমন। তাদের ঘরে আসে এক কন্যাসন্তান। তাদের বিচ্ছেদের পর বিজরী পরে বিয়ে করেন অভিনেতা ইন্তেখাব দিনারকে।

অভিনেত্রী অপি করিম ২০০৭ সালে প্রবাসী কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার তাসির আহমেদকে বিয়ে করেন। বছর না গড়াতেই তাদের সংসার ভেঙে যায়। এরপর অপি প্রেমে পড়েন নাট্য পরিচালক মাসুদ হাসান উজ্জ্বলের। বিয়েও হয় তাদের। কিন্তু সেই বিয়েও বেশিদিন টেকেনি। এরপর অপি বিয়ে করেন চলচ্চিত্র নির্মাতা ও স্থপতি এনামুল করিম নির্ঝরকে।

নাট্যজগতে সমালোচিত মডেল ও অভিনেত্রী সাদিয়া জাহান প্রভা ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা জিয়াউল ফারুক অপূর্বকে। কিন্তু বিয়ের পরে প্রভার প্রাক্তন প্রেমিক রাজিব প্রভার সঙ্গে তার কয়েকটি অন্তরঙ্গ ভিডিও প্রকাশ করলে অপূর্ব ডিভোর্স দেন প্রভাকে।

মিডিয়ায় কাজ করতে করতেই অভিনেতা হিল্লোলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা হয় অভিনেত্রী নওশীনের। হিল্লোল তার স্ত্রী তিন্নিকে ছেড়ে নওশীনকে বিয়ে করেন। তবে এটি নওশীনের প্রথম বিয়ে ছিল না। মিডিয়ায় কাজ শুরুর আগে তিনি আরো একটি বিয়ে করেছিলেন। কিন্তু সেই বিয়েও বেশিদিন টেকেনি। সেই ঘরে একটি সন্তানও রয়েছে নওশীনের।

টিভি নাটকের নায়িকা সুজানা ঢাকার একটি বায়িং হাউজের কর্মকর্তা ফয়সাল আহমেদকে ২০০৬ সালে বিয়ে করেন। মাত্র চার মাসের মাথায় সে বিয়ে ভেঙে যায়। এর পরে ২০১৫ সালের ১লা আগস্ট বয়সে ৭ বছরের ছোট কণ্ঠশিল্পী হৃদয় খানের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন সুজানা। দ্রুতই ভেঙে যায় তার দ্বিতীয় সংসারও। সুজানা-হৃদয়ের সংসারও স্থায়ী হয়েছিল মাত্র চার মাস।

তিন্নি প্রথমে বিয়ে করেন অভিনেতা আদনান ফারুক হিল্লোলকে। দাম্পত্য কলহের জেরে ২০০৯ সালের শেষের দিকে তারা আলাদা থাকতে শুরু করেন। তার বেশ ক’বছর পর তাদের বিচ্ছেদের খবর প্রকাশ হয়। এদিকে, ২০১৪ সালের ১৮ই ফেব্রুয়ারি আদনান হুদা সাদকে বিয়ে করেন তিন্নি। ২০১৫ সালের অক্টোবর মাসে প্রকাশ হয় তার দ্বিতীয় বিয়ের কথা। এ সংসারও সুখের হয়নি। বিচ্ছেদে জড়ান তিনি।

২০০৮ সালের ২৮শে ডিসেম্বর অভিনেত্রী নাদিয়া আহমেদ প্রথমে বিয়ে করেছিলেন অভিনেতা মনির খান শিমুলকে। সংসারজীবন শুরুর পাঁচ বছরের মাথায় তারা আলাদা থাকতে শুরু করেন। ২০১৫ সালের এপ্রিলে তাদের বিবাহবিচ্ছেদের খবরটি জানাজানি হয়। পরে ২০১৬ সালের ১৪ই জানুয়ারি নাদিয়া বিয়ে করেন অভিনেতা নাঈমকে। বর্তমানে তার সঙ্গেই সংসার করছেন নাদিয়া।