‘এমন বাবার জন্য আমরাও কাঁদবো না, তুমিও কাঁদবে না মা’

চারমাস দেশে থাকার পর গত শুক্রবার (২৬ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যান একসময়ের জনপ্রিয় অভিনেত্রী ইপসিতা শবনম শ্রাবন্তী। তার স্বামী মোহাম্মদ খোরশেদ আলমের পাঠানো তালাকের নোটিশ পাওয়ার পর দুই মেয়ের হাত ধরে গত ২৫ জুন তিনি দেশে এসেছিলেন।

তাদের বড় মেয়ের নাম রাবিয়াহ আলম, বয়স সাত বছর। আর ছোট মেয়ে আরিশা আলমের বয়স সাড়ে তিন বছর। দুই মেয়েকে নিয়ে ঠিকঠাক যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেছেন বলে জানিয়েছেন ‘রং নাম্বার’খ্যাত এই অভিনেত্রী।

রোববার (২৮ অক্টোবর) ফেসবুকে একটি পোস্টের মাধ্যমে এ তথ্য জানান শ্রাবন্তী।ছোট মেয়ে আরিশা আলমের সঙ্গে শ্রাবন্তীএদিন ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে শ্রাবন্তী লেখেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ্‌। সুন্দরভাবে পৌঁছলাম। এখানে ভালোই ঠাণ্ডা। আমার দুই মেয়ে মহা খুশি। ওদের স্কুল শুরু হবে, তারা স্কুলে যাবে। নতুন জীবন ও নতুন দুনিয়া। সবাই সময় পেলে আমার দুই মেয়ে ও আমার জন্য দোয়া করবেন। যাতে আর কোনও ঝড় আমাদের তিনজনকে ভেঙে মুচড়ে দিতে না পারে।’

‘বয়সতো কম হলো না। এখন আমি মা হিসবে মাথা নষ্ট করে বাচ্চার দু’টির জীবন শেষ করতে পারি না। বাবাকে কাছে পেতে অনেক কষ্ট করছে ওরা। অনেক কষ্ট পেয়েছেও। কিন্তু ওরা নিজেরাই এখন ক্লান্ত। এতো ছোট ছোট দুইটি বাচ্চার বিবেক আর বুদ্ধির কাছে আমি হেরে গেছি। ওদের মন খারাপ হয় কিন্তু বুঝতে দেয় না। উল্টো আমাকে বলছে শক্ত হতে’, যোগ করেন এই অভিনেত্রী।

বড় মেয়েকে নিয়ে শ্রাবন্তী লেখেন, ‘আমার রাবিয়াহ আমাকে বলে, এমন বাবার জন্য আমরাও কাঁদবো না, তুমিও কাঁদবে না মা। আর কি কিছু বলার আছে? আমার মাও অসুস্থ। আল্লাহ আমার মাকে ভালো রাখুন এই দোয়া করি।’

সবশেষে শ্রাবন্তীর কথা, ‘কৃতজ্ঞ আমি অনেকের কাছে। তাদের নাম বলে শেষ করতে পারবো না। আলহামদুলিল্লাহ্‌, যে মানুষগুলো আমাকে এতো ভালোবাসেন তাদের সুস্থতা কামনা করি। সবাই ভালো থাকুন, দোয়া করবেন। দেখা হবে আবার দেশের মাটিতে।’সন্তান কোলে খোরশেদ আলম ও শ্রাবন্তী২০১০ সালের ২৯ অক্টোবর মোহাম্মদ খোরশেদ আলমের সঙ্গে শ্রাবন্তীর বিয়ে হয়। গত ৭ মে শ্রাবন্তীকে তালাকের নোটিশ পাঠান খোরশেদ। তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক। পাশাপাশি এনটিভির মহাব্যবস্থাপক (অনুষ্ঠান) ছিলেন।

দেশে ফিরে গত ২৬ জুন থানায় স্বামীর বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন আর যৌতুকের মামলা করেন শ্রাবন্তী। এরপর গত ২২ জুলাই তালাকের নোটিশকে অবৈধ দাবি করে ঢাকার পারিবারিক আদালতে ‘দাম্পত্য স্বত্ব পুনরুদ্ধার’ মামলা করেন শ্রাবন্তী। তবে খোরশেদ আলম এখনো নিজের সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছেন বলা জানা যায়।