কাজের ফাঁকে রূপচর্চা

|রূপ-কেয়ার ডেস্ক|

rupcare_busy beauty

প্রতিদিনের ব্যস্ততার ফাঁকে আমরা নিয়মিত রূপচর্চা করার কথা মনেই রাখি না। অথচ সংসার, অফিস এগুলোর পাশাপাশি রূপচর্চাও সমান জরুরী। কাজের ফাঁকে শত ব্যস্ততার মাঝেও আপনার রূপচর্চার কৌশলগুলো নিয়ে এবারের আয়োজন।

ম্যাগাজিনে, দেশ-বিদেশের বিউটি ট্যাবলয়েডে নানারকম রূপচর্চা সম্পর্কে প্রায়ই পড়ে থাকি। আর এসব প্রতিবেদন পড়তে পড়তে মনে হতেই পারে, এসব কি আর আমার মতো সারাদিন ছুটে বেড়ানো কারও পক্ষে মেনে চলা সম্ভব! আর এই চিন্তার পাশাপাশি আরেকটি কথা মনের মধ্যে ঘুরপাক খেতে থাকে—ইস! যদি আমিও এত কাজের মাঝে নিয়মিত একটা বিউটি রুটিন মেনে চলতে পারতাম, তাহলে মন্দ হতো না! এসব চিন্তা মনে আসা খুবই স্বাভাবিক। সত্যিই তো রোজ সকাল আটটার মধ্যে অফিসে বেরিয়ে পড়ছেন; সারাদিন টার্গেট, মিটিং, ডেডলাইনে একাকার। বাড়ি ফিরতে ফিরতে সেই নয়টা সাড়ে নয়টা। বাড়ি ফিরে কোনো রকম ফ্রেশ হয়ে আবার সংসার ঝামেলাতে নেমে পড়া। এ সবকিছুর মধ্যে আলাদা করে বেশ খানিকটা সময় শুধু রূপচর্চার জন্য বের করা খুব একটা সম্ভব হয়ে ওঠে না। সেটার জন্য আপনার মাইন্ড সেট-আপও কিছুটা দায়ী। আসল কথা হলো, আপনি আসলে নিজের জন্য সময়ই বের করতে চান না। তবে তার মানে এও নয় যে, আপনার বিউটি কেয়ার রুটিন একেবারেই অসম্ভব। কয়েকটি খুব সহজ পদ্ধতি মেনে চললে দেখবেন সারাদিন অনায়াসেই আপনি ফ্রেশ লুক বজায় রাখতে পারবেন।

* সকালে বাড়ি থেকে বেরোনোর সময় তো একটা বেসিক মেকআপ করেই থাকেন। সেই বেস মেকআপ মেন্টেন করতে চাইলে একটা কথা খেয়াল রাখবেন। বারবার মুখে হাত দেবেন না। এতে মেকআপ স্মাজ হয়ে যায়।

* একইভাবে চুলেও বেশি হাত দেবেন না। বারবার চুলে হাত দিলে চুলের বাউন্সিভাব নষ্ট হয়ে যায় এবং চুল চিটচিটে হয়ে যায়।

* যারা দিনের বেশিরভাগ সময়টায় এসি’র মধ্যে কাটান তাদের ত্বকের উপর খুবই খারাপ প্রভাব পড়ে। বিশেষ করে যাদের ত্বক তৈলাক্ত তাদের ত্বক আরও বেশি তেলতেলে হয়ে যায়। এই সমস্যার সমাধানে সব সময় টিস্যু রাখবেন। তবে ওয়েট টিস্যু নয়। অফিস ড্রয়ারেও রেখে দিতে পারেন টিস্যু। মাঝে মাঝেই আলতো করে মুখ মুছে নিন।

* আপনার ত্বক যদি শুষ্ক হয়, তা হলে এসির মধ্যে বেশিক্ষণ থাকার ফলে ড্রাই হয়ে যেতে পারে। তাই মাঝে মাঝেই টোনার দিয়ে স্প্রে করতে পারেন। এতে ত্বক সব সময় ফ্রেশ ও কোমল থাকবে।

* কাজের ফাঁকে মাঝেমধ্যেই ঠোঁটে ময়েশ্চারাইজার গ্লস লাগিয়ে নিন। ঠোঁট ফাটবে না।

* দুপুর বেলার দিকে অথবা বাইরে কোথাও থেকে ফিরে একবার ফেস ওয়াশ দিয়ে মুখ ভালভাবে ধুয়ে নিয়ে ময়েশ্চারাইজার এবং তারপরে অবশ্যই সানস্ক্রিন লোশন লাগিয়ে নেবেন। মনে হতে পারে, অফিসের ভেতর সানস্ক্রিনের আবার কিসের প্রয়োজন। প্রয়োজন আছে, কারণ কম্পিউটারের সামনে বসে বেশিক্ষণ কাজ করলেও ত্বক ট্যান হয়ে পড়ার সম্ভাবনা থেকে যায়।

টিপস

* ভালো পকেট সাইজ আয়না কিনে নিন। এমন শেপের কিনবেন যা অনায়াসেই আপনার ছোট পার্সেও ঢুকে যেতে পারে।

* অফিসে একসেট ফেসওয়াশ, ময়েশ্চারাইজার এবং সানস্ক্রিন লোশন রাখুন।

* অফিসে যেমন তেমনভাবে সব সময় মেকআপের জিনিস ফেলে রাখবেন না। একটা ব্যাগে ভরে নিজস্ব ড্রয়ারে রেখে দিন।

* অফিস ব্যাগে অথবা ড্রয়ারে কমপ্যাক্ট রেখে দিন। প্রয়োজন পড়লে একটু পাফ করে নেবেন। ফ্রেশ লুক পেয়ে যাবেন।

* কোনো একটি কালারড আই পেন্সিল সঙ্গে রাখুন। এতে আই পেন্সিল দিয়েই আই শ্যাডোর কাজ করে নিতে পারবেন।

তথ্যসূত্র: ইত্তেফাক

facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedin