রুপার গহনা : পরিষ্কার করুন নিজেই :

সোনার গহনার বর্তমান যে বাজারমূল্য তাতে এটি আর এখন দৈনন্দিন সাজসজ্জায় ব্যবহারের তালিকায় খুব কমই স্থান পায়। তবে এই স্থান দখল করতে রুপার গহনার জুড়ি মেল ভার। এটি এখন আধুনিক ফ্যাশনের অংশও বটে।

রুপার তৈরি গহনা যারা ব্যবহার করেন, তারা নিশ্চয়ই জানেন কত কম সময়ে এসব গহনায় কালচে বা লালচে দাগ পড়ে যায়। ঈদ-পার্বণে পোশাকের সাথে মিলিয়ে অবশ্যই গয়নাও পড়তে হবে। কিন্তু আাপনার রুপার প্রিয় সেটটি সেই আগের মতো ঝকঝকে উজ্জ্বল আর নেই । আমরা সবাই জানি এক্ষেত্রে সিলভার পলিশ খুব ভালো কাজে দেবে। ঈদের আগেই রুপার দোকানে দিয়ে সেটটি আবার আগের মতো ঝকঝকে করে নেওয়া যাবে। অনেকে হয়তো ইতোমধ্যে করেও নিয়েছেন।
কিন্তু আমরা অনেকেই জানি না, বাববার পলিশের ফলে অলংকারের ওপর থেকে ধাতুর স্তর ক্রমাগত ক্ষয় হতে থাকে। প্রথম প্রথম খুব উজ্জ্বল দেখালেও খুব তাড়াতাড়িই অলংকার তার স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা হারিয়ে ফেলে। তাছাড়া বারবার ঘষামাজার ফলে অলংকারের সংযুক্তির জায়গাগুলিও ক্ষয়ে যায়, এতে গয়নাটি ভেঙেও যেতে পারে।
তাই রুপার দোকানে না দিয়ে ঘরে বসে খুব সহজেই আপনার প্রিয় গয়নাটি পরিষ্কার করে ফেলতে অল্প সময়ে। আসুন জানা যাক কাজটি কীভাবে করবেন।

যা লাগবে :
. পানি
. লবণ
. অ্যালুমিনিয়ামের পাত্র
. বেকিং সোডা

নিয়ম :
. প্রথমে অ্যালুমিনিয়ামের পাত্র নিন ।
. তাতে এক টেবিল চামচ বেকিং সোডা ও এক টেবিল চামচ লবণ নিন।
. এখন পাত্রে কিছু হালকা গরম পানি ঢালুন ।
. লবণ ও সোডা পানিতে ঠিকমত গুলে না যাওয়া পর্যন্ত নাড়তে থাকুন ।
. এরপর মিশ্রণটিতে রুপার গয়না দিয়ে ১-২ মিনিট অপেক্ষা করুন। প্রয়োজনে পরিষ্কার ব্রাশ দিয়ে একটু ঘষে নিতে পারেন।

সতর্কতা :
পাথরের গয়না এই পদ্ধতিতে পরিষ্কার না করাই ভালো। যদিও তাতে তেমন কোনো সমস্যা হয় না, তবু দামি পাথরের বেলায় এই ঝুঁকি নেওয়া ঠিক হবে না। গয়নার ওপর অন্য কোনও ধাতুর পলিশ থাকলে তো একদমই এভাবে পালিশ করা যাবে না। কারণ এতে গয়নার রঙ দ্রুত নষ্ট হয়ে যাবে।
এক্ষেত্রে খুব পুরাতন গয়না নতুনের মতো পরিষ্কার হবে না। পুরাতন গয়না অনেক দিন যাবত পরিষ্কার না করলে তা দোকানে দিয়েই পালিশ করানো ভালো।