চীনে পিতা-মাতার দায়িত্ব পালন করছে রোবট!

চীনে ব্যস্ত বাবা-মা শিশুদের সময় দিতে পারছেন না বলে তাদের জায়গায় জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স সম্পন্ন ছোট ছোট রোবট!


বেইজিংয়ের বাসিন্দা ৩ বছর বয়সী সেভেন কং নিয়মিত কিন্ডারগার্টেনে যায়। সেখানে তার অনেক বন্ধুবান্ধব আছে খেলার জন্য। কিন্তু বাড়িতে এলে সে একেবারেই একা, তাকে সবসময় দেখে রাখতে পারেন না বাবা-মা। তার খেলার সঙ্গী হলো বিনকিউ নামের একটি রোবট।

বিনকিউ হলো ছোট, কিডনি আকারের লেবু সবুজ রঙের একটি অ্যান্ড্রয়েড রোবট। ঘণ্টার পর ঘণ্টা তার সাথে সময় কাটায় সেভেন। সেভেন ছোট ছোট প্রশ্ন করতে থাকে রোবটটিকে, রোবটটিও সরল ভাষায় ছোট ছোট উত্তর দেয় তাকে। সেই সাথে স্ক্রিনে বিভিন্ন মুখভঙ্গিও দেখা যায়।

সেভেনের বাবা-মাকে এই রোবটটি কেনার পরামর্শ দেন এক বন্ধু। রোবটটি ছোটবেলা থেকেই শিশুর শিক্ষায় সাহায্য করে এবং বাবা-মায়ের চাপ কমায়, জানিয়েছেন সেভেনের মা লি কিয়ান। মাঝে মাঝে ভয়েস রিকগনিশনে সমস্যা হলেও সেভেনের সাথে আলাপচারিতায় তার কোনো সমস্যা হয় না।

প্রযুক্তিপ্রেমী পিতা-মাতার জন্য চীনে এ ধরণের রোবটের চাহিদা ও সরবরাহ বেড়ে গেছে। বাচ্চাকে শিক্ষাদান ছাড়াও তাকে ‘বেবিসিটিং’ করতে পারে এসব রোবট।

তবে কিছু কিছু বিশেষজ্ঞ একে অপ্রয়োজনীয় বলে মনে করছেন এমনকি একে স্মার্টফোনের সাথে তুলনা করছেন। কেউ কেউ ভাবছেন, এগুলো হয়তো শিশুর জন্য যথেষ্ট নিরাপদ নয়।

বিনকিউয়ের দাম মাত্র ৩০০ ডলার। এ কারণে চীনের লাখ লাখ মধ্যবিত্ত পরিবারে তার জনপ্রিয়তা দেখা যায়। বিনিকিউয়ের কোম্পানি রুবটের প্রেসিডেন্ট জেমস ইন দাবি করেন, আগামী পাঁচ বছরের মাঝে চীনের সব খেলনাই ডিজিটাল হয়ে যাবে। বাচ্চারা যেহেতু কম বুদ্ধিমত্তার রোবট নিয়েই সন্তুষ্ট তাই এখান থেকেই অ্যান্ড্রয়েড রোবটের বিকাশ শুরু হওয়াটা ভালো। তারা শিশুদেরকে ইংরেজি শেখাতে পারে এমন রোবটও প্রস্তুত করছেন।

চীনে এসব রোবটের বিশাল বাজার তৈরি হয়েছে। বাচ্চাদের জন্য তৈরি ডিজিটাল ঘড়ি এবং এসব রোবট মিলিয়ে শুধু এই বছরই ৩ কোটি এআই এডুকেশনাল রোবট বিক্রি হয়েছে সে দেশে। সামনের বছর ১০ কোটি ছাড়িয়ে যেতে পারে এ সংখ্যা।

তবে অনেকেই এসব রোবটের বিপক্ষে কথা বলছেন। তাদের মতে, সাধারণ একটি স্মার্টফোনের চাইতেও কম বুদ্ধিমত্তা রয়েছে এসব রোবটের। সাধারণ একটি ট্যাবলেট কিনলেই এসব সুবিধা পাওয়া যাবে মনে করেন তারা।

সূত্র: সিএনএন