চুল পরা রোধে আধুনিক চিকিৎসা

|ডা. ফেরদৌস কাদের মিনু|

চুল পরা রোধে ও চুল নতুন করে ফিরে পেতে উন্নত বিশ্বে ব্যবহৃত হয় নান রকম আধুনিক পদ্ধতি। তবে আশার কথা হলো বাংলাদেশে চুল পরা রোধের প্রায় সব চিকিৎসাই আছে। তবে অপেক্ষাকৃত ব্যয়বহুল হওয়ায় সাধারণ মানুষ এখনো এ ধরনের উন্নততর চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত। আরেকটি সমস্যা হলো এসব চিকিৎসা এখন পর্যন্ত শুধু ঢাকাতেই সীমাবদ্ধ। ঢাকার বিভিন্ন কসমেটিক সার্জারি সেন্টারে গত সাত-আট বছর ধরে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তবে এগুলোর খরচও আগের চেয়ে এখন অনেক কমে এসেছে। এরকম কয়েকটা পদ্ধতি আসুন এক নজরে দেখে নেয়া যাক।

ওষুধের মাধ্যমে চিকিৎসা


বাজারে চুল পড়া রোধের জন্য মিনোক্সিডিল নামের ওষুধ পাওয়া যায়। এটি যেখান থেকে চুল পড়ছে সেখানে লাগাতে হবে। এটি নারী ও পুরুষ উভয়েই ব্যবহার করতে পারেন। এতে কাজ না হলে অন্য চিকিৎসা নিতে হবে।

লেজার থেরাপি এলএইচটি


লেজার থেরাপি হেয়ার ফলিকলগুলোকে আবার সজীব করে। এমনিতে প্রতিদিনই চুল পড়ে ও নতুন চুল গজায়। কিন্তু বয়সের সঙ্গে সঙ্গে বা অন্য কোনো অসুস্থতার ফলে যে পরিমাণ চুল পড়ে যায়, সেই পরিমাণ গজায় না। লেজার থেরাপি চুলের গোড়ায় রক্ত সঞ্চালন ৫৪ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়ে দেয় ও ফলিকলগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করে। চুলের গোড়া ও কাণ্ডের গঠন দৃঢ় করে। চুলের অকাল পতন রোধ করে।
এটি আধঘণ্টা পরে প্রতি সপ্তাহে এক দিন হিসেবে, সাধারণত ছয় মাস পর্যন্ত নিতে হয়। লেজার থেরাপির পাশাপাশি মিনোক্সিডিলও ব্যবহার করতে হয়।

হেয়ার ফলিকল রিপ্লেসমেন্ট


এটি এক ধরনের মাইক্রোসার্জারি বা সূক্ষ্ম অপারেশন। এতে চুল পড়ে যাওয়া অংশে হেয়ার ফলিকল ইমপ্লান্ট করা হয়। অপারেশনটিতে প্রাই দুই ঘণ্টা সময় লাগে। অপারেশনের পরদিনই রোগী বাসায় চলে যেতে পারেন। সাধারণত মোট দুই-তিনটি সিটিং লাগে।

হেয়ার স্কাল্প রিপ্লেসমেন্ট


এ ক্ষেত্রে অক্সিপুট বা মাথার পেছনের অংশ যেখানে চুলের ঘনত্ব বেশি থাকে তা ফ্ল্যাপ করে কেটে এনে টাক হওয়া অংশে রিপ্লেস করা হয় বা বসানো হয়। কখনো কখনো নিজের স্কাল্প হেয়ারের পরিবর্তে আর্টিফিশিয়াল হেয়ার পিস আক্রান্ত স্থানে ইমপ্লান্ট করা হয়।

facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedin