জীবনে চলার পথে একজন তরুণী যে বিষয় গুলো সামলে চলবেন

|রূপ-কেয়ার ডেস্ক|

rupcare_woman should do1

তারুণ্য হলো একটি মানুষের জীবনের সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ সময়। তারুণ্যকে আশীর্বাদও বলা হয়ে থাকে। কিন্তু এই আশীর্বাদই পরিণত হতে পারে অভিশাপে যদি তারুণ্যে নিজেকে সামলে চলা না যায়।

আমাদের সমাজ ব্যবস্থায় তরুণীরা সব দিক থেকেই বেশ ঝুঁকিতে থাকে। কিছু হলেই পরিবার আর সমাজ আঙুল তোলে তরুণীদের দিকে। আর তাই নিজেকে সামলে চলতে না পারলে এই তারুণ্যই কাল হয়ে দাঁড়ায় তরুণীদের জন্য। জীবনে চলার পথে একজন তরুণীর বেশ কিছু বিষয় সামলে চলা উচিত। জেনে নিন একজন তরুণীর নিজের নিরাপত্তার জন্য এবং জীবনে সাফল্য পাওয়ার জন্য কী কী বিষয় সামলে নেয়া উচিত সেই সম্পর্কে।

লেখাপড়া
একজন তরুণীর জন্য সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হলো তার পড়াশোনা। পড়াশোনা করার এই সময়টা কোনো দিনও আবার ফিরে পাওয়া সম্ভব না। আর তাই এই সময়ে সব কিছুর চাইতে বেশি গুরুত্ব দেয়া উচিত পড়াশোনাকে। তারুণ্যে পড়াশোনায় ফাঁকি দিলে ভবিষ্যৎ জীবনের উপর বিরূপ প্রভাব পড়বে। তাই তরুণীদের উচিত পড়াশোনার প্রতি মনযোগী হওয়া।

নিজেকে উপস্থাপনের ব্যাপারে
তারুণ্যে নিজেকে সঠিক ভাবে উপস্থাপনের ব্যাপারে সচেতন হওয়া উচিত। তারুণ্যই নিজের ব্যক্তিত্বকে গড়ার সময়। আর তাই এই সময়ে পোশাক আশাক, চাল-চলন, ব্যক্তিত্ব, কথা বলার ভঙ্গিমা সব কিছুতেই নিজেকে প্রকাশ করুন একজন রুচিশীল তরুণী হিসেবে।

ভেবে চিন্তে বন্ধু নির্বাচনPretty happy young lady lying on floor smiling
তরুণীদের আশে পাশে অনেক পুরুষই ঘোরাঘুরি করে একটু মনোযোগ পাওয়া কিংবা বন্ধুত্বের আশায়। কিন্তু সবার উদ্দেশ্য তো আর সৎ নয়। তাই তরুণীদের উচিত বন্ধু নির্বাচনের ক্ষেত্রে সতর্ক হওয়া। না জেনে শুনে হুট করে খুব বেশি জড়িয়ে যাওয়া উচিত না বন্ধুত্বের জালে। বিপরীত লিঙ্গের বন্ধু তো বটেই অনেক সময় বান্ধবীরাও ডেকে আনতে পারে অনেক বড় বিপদ। তাই বন্ধু নির্বাচনে প্রয়োজন একটু সাবধানতার।

নেশা থেকে দূরে থাকা
আমাদের তরুণ সমাজ বর্তমানে নেশার মরণ ছোবলে আক্রান্ত। আর এই মরণ ছোবলের কবল থেকে বাঁচতে পারছে না তরুণীরাও। নেশাদ্রব্যের সহজলভ্যতা ও নিষিদ্ধবস্তুর প্রতি আগ্রহের কারণে অনেক তরুণীই নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। ফলে উচ্ছন্নতা ও উগ্রতা গ্রাস করে ফেলছে তাদের। ফলে নষ্ট হচ্ছে তাদের শিক্ষাজীবন ও চরিত্র। আর তাই তরুণীদের উচিত নেশা থেকে দূরে থাকা এবং নেশাগ্রস্ত বন্ধুদের সঙ্গ ত্যাগ করা।

প্রেমের ফাঁদে পা না দেয়া
ইদানিং আমাদের সমাজের অনেক তরুণীই হুট করেই প্রেমের ফাঁদে পা দিয়ে দিচ্ছে। নিয়মিত প্রেমিক পরিবর্তন, প্রেমিকের সাথে ঘনিষ্ট ভাবে মেলা মেশা করছে অনেক তরুণীই। ফলে কম বয়সেই প্রেমের তিক্ত অভিজ্ঞতা হয়ে যায় তাদের এবং ‘ভালোবাসা’ বিষয়টি একধরনের ছেলেখেলা মনে হয় তাদের কাছে। অনেকে আবার ঘনিষ্ট ভাবে মেলামেশা করার কারণে ব্ল্যাকমেইলের শিকারও হচ্ছে অহরহ। তাই তরুণীদের উচিত হুট করে প্রেমের ফাঁদে পা বাড়িয়ে না দিয়ে নিজের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করা।

নিরাপত্তার ব্যাপারে সচেতনতা
পুরুষ শাসিত এই সমাজে তরুণীরা এখনও অনিরাপদ। আমাদের সমাজ যেহেতু তরুণীদেরকে শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারছে না তাই নিজেদের নিরাপত্তার ব্যাপারে নিজেদেরকেই সচেতন থাকা উচিত তরুণীদের।

তথ্যসূত্র: প্রিয় লাইফ