জেনে নিন চুল কাটা ও সঠিক হেয়ারস্টাইলের হিসাব-নিকাশ

rupcare_hair trimmimg

হিসাব-নিকাশ করে কি আর চুল কাটানো যায়, বলুন? মন চাইল চুল কাটালেন। আবার মন চাইল তো লম্বা করলেন চুল। ইচ্ছেমতো চুল কাটাতে বাধা নেই। তবে মাথায় রাখুন কিছু ব্যাপার। একটানা অনেক দিন পর্যন্ত চুল না কাটা হলে চুল হারাবে সৌন্দর্য। ঠিক কত দিন পর পর চুল কাটানো উচিত, আর হেয়ারস্টাইলের ব্যাপারে কোন কোন নিয়মই বা মেনে চলতে হবে, তা জেনে নেওয়া যাক।

চুল কাটানোর হিসাব-নিকাশ
রেড বিউটি স্যালনের রূপবিশেষজ্ঞ আফরোজা পারভীন বলেন, দেড় মাস পর পর হেয়ারস্টাইল পাল্টানো যেতে পারে। তবে চুল কাটাতে সর্বোচ্চ তিন মাসের বেশি দেরি করা ঠিক নয়। কারণ, তিন মাস পর চুলের নিচের দিকটা পাতলা হয়ে যায়। খুব বেশি দেরি হলে চুলের নিচের দিকটা ভেঙে দুই ভাগ হয়ে যেতে পারে। আর এভাবে চুল রুক্ষ হয়ে পড়ে। আফরোজা পারভীনের আরও

কিছু পরামর্শ—
যাঁদের চুল লম্বা, তাঁরা চুল ছোট করতে চাইলে একবার চুল কাটানোর এক মাসের মধ্যে চুল কাটালেও সমস্যা নেই।
•যাঁদের চুল একটু ছোট করে কাটানো আছে, তাঁরা চুল বড় করতে চাইলে একবার চুল কাটানোর তিন মাস পর চুলের আগা কাটাতে পারেন। এভাবে চুল কাটানোর আরও কয়েক মাস পর চুল যথেষ্ট লম্বা হবে। তখন লম্বা চুলের জন্য উপযোগী হেয়ারস্টাইল বেছে নিতে পারেন।

সুস্থ ও সুন্দর চুলের জন্য
হারমনি স্পার আয়ুর্বেদিক রূপবিশেষজ্ঞ রাহিমা সুলতানা বলেন, চুলে আয়রন করা বা ব্লো-ড্রাই করার ফলে চুল নষ্ট হয়ে যেতে পারে। বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহারের ফলে চুল বেশি ফেটে যায়। আর চুল একবার ফেটে গেলে ফেটে যাওয়া অংশটা কেটে ফেলা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকে না।
সুস্থ সুন্দর লম্বা চুল যাঁরা চান, তাঁদের জন্য রাহিমা সুলতানার পরমর্শ—
# আমলকী, মেথি, টকদই আর মধু একসঙ্গে মিশিয়ে নিয়ে চুলে লাগাতে পারেন। ২০ মিনিট পর চুল ধুয়ে ফেলুন। এভাবে সপ্তাহে একবার চুলের যত্ন নিন।
# শুধু মেথি আর টকদই মিশিয়েও প্যাক তৈরি করতে পারেন।
# কলা আর টকদই একসঙ্গে মিশিয়েও চুলে লাগানো যেতে পারে।
# নিয়মিত তেল মালিশ করলে তা ডিপ কন্ডিশনিংয়ের কাজ করবে।
# আমলকী খেতে পারেন।
# নিয়মিত পরিপূর্ণ ঘুম প্রয়োজন সার্বিক সুস্থতার জন্য।

চুল কাটালেই বাড়বে তো?
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের চর্মরোগ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হরষিত কুমার পাল বলেন, চুল কাটার ব্যাপারে কোনো ধরাবাঁধা নিয়ম নেই। প্রচলিত কিছু ধারণার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দিয়েছেন তিনি—
# চুল নিয়মিত কাটা হলে চুলের বৃদ্ধি বেশি হয়, এমন ধারণা ঠিক নয়। প্রাকৃতিকভাবেই চুল বাড়ে। প্রাকৃতিকভাবেই কিছু চুল পড়ে যায়।
# চুল বারবার কাটা হলে বা শিশুদের ক্ষেত্রে চুল সম্পূর্ণ চেঁছে ফেললে চুলের সংখ্যা বাড়বে, এমন কথার কোনো ভিত্তি নেই।
# চুলের বৃদ্ধির বিভিন্ন পর্যায় থাকে। সেসব পর্যায় অনুযায়ী একই সময়ে কিছু চুল বাড়তে থাকে, কিছু চুলের বৃদ্ধি থেমে যায়, আবার কিছু চুল পড়ে যায়। তাই এক থেকে দেড় মাসের মধ্যেই হেয়ারস্টাইল নষ্ট হয়ে যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে সেই হেয়ারস্টাইল ধরে রাখতে হলে মাস দেড়েক পরে চুল কাটাতে হবে। অবশ্য ঠিক দেড় মাসের মধ্যেই চুল না কাটালে চুলের অন্য কোনো ক্ষতি হবে না।

বাড়ছে, তবু কাটাচ্ছি চুল
সোনালী’স এইচডি মেকআপ স্টুডিওর প্রধান রূপবিশেষজ্ঞ সোনালী ফেরদৌসী মজুমদার বলেন, প্রতি মাসেই চুল এক থেকে দুই ইঞ্চি পর্যন্ত বাড়তে পারে।
চুল কাটানোর ব্যাপারে তাঁর পরামর্শ—
# প্রতি মাসেই একবার করে চুল কাটাতে পারেন। এতে চুল সুস্থ থাকবে।
# চুল সুস্থ রাখতে হেয়ারস্টাইল পাল্টাতেই হবে, ব্যাপারটা তা নয়। হেয়ারস্টাইল একই রকম রাখতে চাইলেও কোনো ক্ষতি নেই। তবে হেয়ারস্টাইল পাল্টানো হোক বা না হোক, নিয়মিত চুল ছাঁটতে বা ট্রিম করাতে হবে, তাহলে চুল ফেটে যাওয়ার ভয় থাকবে না।
# চুল সুস্থ রাখতে হেয়ার স্পা করাতে পারেন।
# যাঁদের চুল একটু পাতলা, তাঁরা চুলে লেয়ার করালে খুব একটা ভালো দেখায় না। বরং তাঁরা ভলিউম লেয়ার করালে ভালো দেখাবে।
# চুল পাতলা বা ঘন যেমনই হোক না কেন, চুল সমান করে না কাটিয়ে ইউ বা ভি আকৃতিতে কাটাতে পারেন।
# যাঁদের কপাল একটু চওড়া, তাঁরা সামনে ব্যাংস রাখতে পারেন।
# যাঁদের মুখ একটু গোলাকার, তাঁদের চুল সামনের দিকে খুব ছোট না করাই ভালো।

সূত্র: প্রথমআলো