তীব্র গরম থেকে রক্ষা পেতে

|অনামিকা মৌ|

প্রচন্ড গরমে চারদিকে সবার ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা। তীব্র রোদ আর চরমভাবাপন্ন আবহাওয়ায় সারা দেশবাসীই অতিষ্ট হয়ে উঠেছে। হয়তো কিছুদিন পর বর্ষা শুরু হয়ে গেলে এই অবস্থা আর থাকবেনা। কিন্তু যতোদিন গরম থাকবে এর থেকে রেহাই পেতে হলে আমাদের অভ্যাসগত কিছু পরিবর্তন করার চেষ্টা করা উচিত। যা কিছুটা হলেও এর থেকে স্বাস্তিতে থাকবে।

প্রখর সূর্যের তাপে বাইরে কম বের হতে চেষ্টা করুন


যদিও এই বিষয়টি মেনে চলা অনেক ক্ষেত্রেই সম্ভব হয়না। তবুও সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত সময়টা সূর্যের তাপ সবচেয়ে বেশি থাকে। খুব বেশি প্রয়োজন না হলে এই সময়টা বাইরে কম থাকার চেষ্টা করা উচিত। যারা এসময়টা অফিস কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়/কলেজ/স্কুলে থাকেন, সেখানেই থাকুন। খুব বেশি প্রয়োজন না হলে স্রেফ আড্ডা বা ঘোরাঘুরি করার জন্য বের হওয়া উচিত নয়। বাইরে বের হওয়ার সময় রঙিন ছাতা, সানগ্লাস, সানস্ক্রিন লোশন ইত্যাদি ভুলবেন না।

কি কি করবেন পরিকল্পনা করুন
ব্যস্ততার এই যুগে কোন না কোন কাজে আমাদের বাইরে বের হতে হয়ই। তবে বের হওয়ার আগে পরিকল্পনা করে নিন কোথায় যাবেন, কি করবেন। যেন একটুকু সময়ও এদিক ওদিক ঘুরে নষ্ট না হয়। যেমন আপনি যদি শপিং এ যান, তবে আগেই ঠিক করে জেনে রাখুন (আত্মীয়-স্বজন, বন্ধুবান্ধবের কাছে জিজ্ঞাস করে) আপনার প্রয়োজনীয় জিনিসটি কোথায় সঠিক মূল্যে পাওয়া যাবে। অযথা এই মার্কেট থেকে ওই মার্কেট ঘুরে সময় নষ্ট না করাটাই ভালো।

পোষাক নির্বাচন করতে হবে সাধারণ, আরামদায়ক


হালকা রং এবং গড়নের পোষাক হতে পারে গরমের সময় ঘরে ও বাইরের জন্য প্রথম পছন্দ। বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের পোষাকের শটস্‌ সংস্করণ পাওয়া যায়। জমকালো ভরিক্কি ধরনের পোষাক বাদ দিয়ে সুতি ও আরামদায়ক বেছে নেয়াটাই বাঞ্ছনীয়। মাথায় একটি রাউন্ড হ্যাট পরতে পারলে রোদ থেকে মুখ এবং চুল দুটোই বাঁচানো যাবে। কিছু বিষয় মাথায় রাখুন:
– মেকআপ যথাসম্ভব কম করুন (করলেও হালকা ধরনের)
– আনুসাঙ্গিক জিনিস কম ব্যবহার করুন (হালকা চুঁড়ি/ব্রেসলেট/কানের দুল, গলা খালি থাকাই ভালো; পরলেও হালকা ধরনের)
– হালকা জুতা, যেন আপনার পা দুটো বাতাস নিতে পারে।

জুতা যেন আপনার দম বন্ধ করে না দেয়


এই গরমে একজোড়া আরামদায়ক জুতাও আপনার অস্থিরতাকে অনেকটা কমিয়ে দিতে পারে। জুতাটি হতে হবে আপনার পায়ের জন্য আরামদায়ক ও খোলামেলা। জুতার মধ্যে অনেকসময় ডিজাইনের জন্য কিছু আলগা জিনিস থাকে যা আপনার অস্বস্তি আরো বাড়িয়ে দেয়। এগুলো বর্জন করতে হবে। হালকা স্লিপার ধরনের খোলামেলা জুতাই বাছাই করা উচিত।

পানির কোন বিকল্প নাই


গরমের দিনে ঘামের মাধ্যমে আমাদের শরীর থেকে প্রচুর পরিমান পানি বেরিয়ে যায়। যা আপনার শরীরে ডিহাইড্রেশন তৈরী করবে। এই ঘাটতি পূরণের জন্য আপনাকে বেশি বেশি পানি পান করতে হবে। অনেকে জুস, স্যালাইন বা গ্লুকোজ পানি পছন্দ করেন। তবে সাধারন যে মিনারেল ওয়াটার, সেটাই সবচেয়ে ভালো। বাইরে বের হওয়ার সময়ও পানির বোতল নিতে ভুলবেন না। আর এড়িয়ে চলবেন সোডা জাতীয় কোমল পানিও, কারণ এগুলো ডিহাইড্রেশনকে আরো ত্বরান্বিত করে।

খাবার খেয়ে ঠান্ডা থাকুন


গরমের সময়ে সঠিক খাবার নির্বাচন করাটা খুবই জরুরী। এসময় সালাদ, ফলমূল, শাক-সবজি এবং হালকা খাবার খাওয়াই উত্তম। আপনি যতো ভারী এবং অতিরিক্ত রান্না করা খাবার শরীরে বেশি তাপ এবং পানি শূণ্যতা তৈরী করে। এ ধরণের খাবার এড়িয়ে চললে গরম থেকে অনেকটা মুক্তি মিলবে।
– জাঙ্ক ফুড, ফাস্ট ফুড এড়িয়ে চলুন।
– এমন খাবার খুজে বের করুন যা রান্না করার প্রয়োজন হয়না।
– গরম আবহাওয়ায় ঠান্ডা স্যুপ খুবই ভাল একটি পথ্য। আপনি আজই এটি চেষ্টা করে দেখুন, শরীর নিমিষেই ঠান্ডা হয়ে যাবে।

গরমের সাথে মানিয়ে নিন
হঠাৎ করে বিদ্যুৎ চলে গেলে বা গরমের মধ্যে কাজ করতে হলে কখনো তাড়াহুরো করবেন না। আগে গরমের সাথে মানিয়ে নিয়ে একটু একটু করে কাজের গতি বাড়ান। এতে গরমের অস্বস্তিবোধ অনেকটাই কমে যাবে।

facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedin