পাকিস্তানে প্রথম হিজড়া টিভি সংবাদ পাঠক

rupcare_marvia-malik

পাকিস্তানে প্রথমবারের মতো একটি টেলিভিশন চ্যানেলে সংবাদ পাঠ করলেন মারভিয়া মালিক নামে একজন হিজড়া।

২৩ মার্চ, দেশটির বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল কোহিনূরে প্রথম সংবাদ পাঠ করেন তিনি।

বার্তা সংস্থা বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, মারভিয়া একজন ফ্যাশন মডেল হিসেবেও কাজ করেছেন। সাংবাদিকতায় স্নাতক মারভিয়া মালিক জানান, যখন তাকে এ চাকরির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল তিনি খুশিতে চিৎকার করে কেঁদে ফেলেছিলেন।

তিনি বলেন, ‘আমি নিজের জন্য এ স্বপ্ন দেখেছিলাম। আমি আমার স্বপ্ন পূরণের পথে প্রথম সিঁড়িতে চড়তে পেরেছি।’

পাকিস্তানে হিজড়াদের নানা ধরনের বৈষম্যের শিকার হতে হয়। অনেক সময় অর্থ উপার্জনের জন্য ভিক্ষা করতে, নাচতে আবার কখনো পতিতাবৃত্তি করতে জোর করা হয়। তার এ কাজ পাকিস্তানের হিজড়া সম্প্রদায়ের জীবনমান উন্নয়নে সহায়ক হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

মারভিয়া বলেন, ‘আমাদের সম্প্রদায়কেও সমান নজরে দেখা উচিত এবং সেখানে কোনো ধরনের লিঙ্গ বৈষম্য থাকলে চলবে না। আমাদের সমান অধিকার দেওয়া উচিত এবং একজন হিজড়া হিসেবে নয় বরং একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।’

কোহিনূরের মালিক জুনাইদ আনসারি ভিওএ নিউজকে জানান, তারা মারভিয়াকে যোগ্যতার ভিত্তিতে নির্বাচিত করেছেন। এখানে লিঙ্গ কোনো বিষয় ছিল না।

এর আগে গত মাসে হিজড়াদের পক্ষে পাকিস্তান সিনেট একটি বিল অনুমোদ করে। ওই বিলে হিজড়া সম্প্রদায়ের অধিকার সুরক্ষার পাশপাশি তাদের নিজেদের লিঙ্গ পরিচয় প্রকাশের অনুমতি দেওয়া হয়।

এদিকে ২০১৬ সালের জুনে পাকিস্তানে নিজেদের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে গিয়ে ২৩ বছরের এক হিজড়া মারা গিয়েছিলেন চিকিৎসার অবহেলার কারণে। তার বন্ধুরা তখন অভিযোগ করেছিলেন, গুলিবিদ্ধ আলিশাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু তাকে পুরুষ নাকি নারী ওয়ার্ডে ভর্তি করা হবে তা নিয়ে হাসপাতালকর্মীরা সিদ্ধান্ত নিতে দেরি করায় তার মৃত্যু হয়।