পানি এত স্বচ্ছ মনে হয় নৌকা হাওয়ায় ভাসছে! নদীটি বাংলাদেশেও আছে…

rupcare_Umragati-river

ডাবকি (ডাউকি) জায়গাটা বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের পূর্ব জৈন্তিয়া পাহাড়ি জেলায়। ছোট কিন্তু ব্যস্ত শহর ডাবকি, অত্র অঞ্চলে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সারাদিন শত শত ট্রাক মাল বোঝাই করে বাংলাদেশে আসা যাওয়া করে শহরটির ভেতর দিয়ে।

ডাউকি মেঘালয়ের রাজধানী শিলং শহর থেকে মাত্র ৯৫ কিলোমিটার দূরে। এই ডাউকি শহর দিয়েই বয়ে যাচ্ছে আশ্চর্য এক নদী যার নাম ওম বা উমগট। এর পানি এতটাই স্বচ্ছ যে কোথাও কোথাও মনে হবে যেন কাঁচ বিছিয়ে রাখা হয়েছে সেখানে কিংবা স্ফটিকে ঢাকা কোনো খাদ যেন। অনেকে উমগটকে বলেন- মেঘালয়ের ‘লুক্কায়িত স্বর্গ’ বা আনএক্সপ্লোর্‌ড প্যারাডাইস।

নামীদামী হোটেলের ঝকঝকে তকতকে সুইমিংপুলেও হয়তো এমন দৃশ্য ফুটিয়ে তোলা সম্ভব হবে না। নদীর ওপর দিয়ে ভেসে যাওয়া নৌকাগুলো দেখে অবাক মানবেন। মনে হবে এগুলো কি আসলে শূন্যে ভাসছে? নিচে নদীর তলার পেটে নৌকার ছায়া দেখা যাবে স্পষ্ট যেমন আমরা খোলা জমিনে কারো ছায়া দেখি। এত সাফসুতরা কোনো নদী বা জলাশয় কিন্তু সচরাচর চোখে পড়ে না। তাও ভারতের মতো নির্বিচার জনদুষণকবলিত দেশে!

তবে ছবি দেখেই বুঝতে পারছেন নদীটির সৌন্দর্য কতোটা স্বর্গীয় স্বপ্নীল আবেশ এনে দিতে পারে। একে তো ঝকঝকে ঝলমলে স্বচ্ছ তার ওপরে ময়লা আবর্জনার চিহ্নটি নেই। এই নদীর সামনে দাঁড়িয়ে আমাদের দুষণ জর্জরিত বুড়িগঙ্গা-শীতলক্ষ্যা বা খোদ ভারতের গঙ্গাকে নদীর স্বীকৃতি দিতেই মন চাইবে না আপনার। আর তাই প্রতিদিন হাজারে হাজারে পর্যটক যায় সেখানে, বোটিং মানে নৌকায় ঘুরে বেড়াতে। ভ্রমণবিলাসীরা বিআরটিসি-শ্যামলীর বাস সার্ভিসে (বা নিজস্ব উদ্যোগে) মেঘালয় ঘুরে আসতে পারেন, সে সূত্রে দেখে আসতে পারেন উমগট নদীর মোহনীয় রূপ।

rupcare_Umragati-river02

তবে অনেকেই হয়তো একটি বিষয় জানেন না যে উমগট নদীই বাংলাদেশে জাফলং সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করে পরিচিতি পেয়েছে পিয়াইন নদী হিসেবে। এই পিয়াইন নদীতেই নয়নাভিরাম বিছানাকান্দি পর্যটন স্পট। যেখানে গিয়ে পারিপার্শ্বিক রূপ সৌন্দর্যে বাকহারা হয়ে যান অনেকে। তাই উমগট দেখতে মেঘালয় যেতে না পারলেও পিয়াইন দেখতে সিলেট-জাফলং যাওয়া যেতেই পারে।

বাংলাদেশে প্রবেশ পথেই উমগট নদী দুই ভাগে বিভক্ত, যার প্রধান শাখা পিয়াইন। অপর শাখাটি ডাউকি বা জাফলং নামে প্রবাহিত হয়। পিয়াইন আর জাফলং নদীর উৎপত্তি উমগট যার উৎপত্তি আসামের জৈন্তিয়া পাহাড়ে।

বাংলাদেশে ১৪৫ কিলোমিটারের পিয়াইন নদী সিলেট জেলার ছাতকের উত্তরে শনগ্রাম সীমান্তের কাছে সুরমা নদীতে গিয়ে মিশেছে। পিয়াইন নদী জাফলং, বিছনাকান্দি ও ভোলাগঞ্জ দিয়ে প্রবাহিত। দেশের বৃহত্তম পাথর কোয়ারি ভোলাগঞ্জ পিয়াইন নদীকে নির্ভর করেই গড়ে উঠেছে।