প্রকৃতির মাঝে ফাগুন সাজে

|সুরাইয়া নাজনীন|

rupcare_boshonto shaj0

কোকিলের কুহু কুহু কলতান। আম্র মুকুলের ঘ্রাণে মৌ মৌ চারপাশ। সবকিছু মিলিয়ে প্রকৃতিতে বিরাজ করছে স্নিগ্ধ অনুভূতি। এ যেন বসন্তের আগমনী বার্তা। সবাই হয়তো ভাবতে শুরু করেছেন প্রথম বসন্তের দিনটি কীভাবে কাটাবেন। বসন্তের সাজ-পোশাক নিয়ে তাই আজকের লেখা।

শাড়ি

rupcare_boshonto shaj1ফাল্গ–ন বসন্তের আগমন দুয়ার খুলে দেয়। নানা উৎসব-আমেজে মেতে থাকে গোটা দেশ। ঐশ্বর্যের অধিকারী বলা হয় বসন্তকে। গাছে গাছে ফুল-পাতার নতুন করে আবির্ভাব মনকে প্রফুল্ল করে তোলে। ঝরা পাতাকে দূরে ঠেলে সবাই যেন নিজেকে একটু সাজিয়ে নিতে চায়। সব কিছুতেই পরিবর্তন আর নতুনত্বের ছোঁয়া লাগে। সব মানুষই উপলব্ধি করে বসন্তকে। দল বেঁধে ফুরফুরে মনে ঘুরতে বেরিয়ে পড়ে সবুজ পরিবেশে। কেউ যেন ঘরে বসে থাকতে চায় না। ফুলে ফুলে নারীরা নিজেকে সাজাতে ভালোবাসে। ফুল আর নারীর সবটুকু সৌন্দর্য প্রকৃতির সঙ্গে মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়। যুক্ত হয় আবেগ-অনুরাগের উদারতা। কৃত্রিমতা বর্জিত বসন্ত বর্ণিল সবসময়। বসন্ত তার উদারতা দিয়ে অনুরাগের ছোঁয়াকে রঙিন সুতোয় বেঁধে দেয়। বসন্ত এলেই নারী মনে লাগে বসন্তের হলদে ছোঁয়া। তারা ফুলে ফুলে নিজেকে সাজাতে চায় বসন্তের প্রথম দিনে। কোন শাড়ির সঙ্গে কোন চুড়ি আবার এলো চুলগুলোকে কোন রঙের ফুলে জড়ালে ভালো লাগবে; সেসব নিয়ে ভাবতে শুরু করেছেন উচ্ছল নারীরা।

বসন্তে সব মেয়েরই পছন্দ শাড়ি। তবে বর্তমানে একরঙা শাড়ির ট্রেন্ডটাই বেশি। এর সঙ্গে হালকা সাজটা বেশ মানিয়ে যায়। শাড়ি এক রঙের পরলে ব্লাউজটা বাহারি ভালো লাগে। হালকা হলুদ জমিন ও কমলা পাড়ের শাড়ির সঙ্গে লাল ব্লাউজ মানানসই। কমলা রঙের ব্লাউজ পরতে পারেন হালকা সবুজ জমিন হলুদ পাড়ের শাড়ির সঙ্গে। পয়লা ফাল্গ–নে ঘটি হাতা, খাটো হাতার ব্লাউজের আবেদন তো আছেই। ব্লাউজে ছোট ঘণ্টা, কলকা ব্যবহার করা যেতে পারে। শাড়ির সঙ্গে কনট্রাস্ট করে ব্লাউজের রংটা বেছে নিন।

গয়না

গলায় বা হাতে যে কোনো একটি গয়না পরুন। এছাড়া মেটাল, কড়ির গয়না পরতে পারেন। বসন্তে ঘরে বসেই সেজে নিতে পারেন অনায়াসে। ‘প্রথমে প্যান কেক বা কমপ্যাক্ট পাউডার দিয়ে মুখে বেস করে নিন। তারপর বাদামি, গাঢ় বাদামি রঙের ব্লাশন ব্যবহার করতে পারেন। সাদা ও সোনালি রঙের মিশ্রণে আইশ্যাডো দিয়ে চোখটাকে সাজাতে পারেন। ঠোঁটে হালকা রঙের লিপস্টিক ব্যবহার করতে হবে। তবে সাজে ভিন্নমাত্রা আনতে চাইলে হালকা মেকআপের সঙ্গে ঠোঁটে গাঢ় রঙের লিপস্টিক ব্যবহার করতে পারেন। ব্লো ড্রাই করে চুলটা খুলে রাখতে পারেন। চুল বড় হলে বেণি করে ফুল পেঁচিয়ে নিতে পারেন। এছাড়া হাতখোঁপা এক পাশে বা দুই পাশে আলাদা করে বাঁধলে অন্য রকম লাগবে।’

সালোয়ার কামিজ/ফতুয়া/পাঞ্জাবীrupcare_boshonto shaj2

ফাল্গুনের প্রথম দিনে প্রকৃতির মতোই নতুন সাজে সেজে থাকে শৌখিন তরুণ-তরুণীরা। বাঙালি তরুণ-তরুণীদের কাছে এই দিনটি এক উৎসবের দিন। ছেলেরা পাঞ্জাবি আর মেয়েরা বাসন্তী রঙের শাড়ি, মাথায় গাঁদা ফুলের মালা পরে মনের মতো সাজায় নিজেকে। বিশেষ করে টিনএজার ও কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়েপড়ুয়াদের মধ্যেই এই ক্রেজটা বেশি। বাজারে সবসময়ই পাওয়া যায় রকমারি সব হলুদ রাঙা শাড়ি, তবে এই বিশেষ দিনে ফ্যাশনেবল নারীদের চাই ফ্যাশনেবল শাড়ি। আর ছেলেদের চাই মানানসই উজ্জ্বল রঙের ফতুয়া, শার্ট, পাঞ্জাবি ও টি-শার্ট। বর্ণিল রঙের বিন্যাসে সাজানো হয়েছে বিভিন্ন ফ্যাশন হাউজের আয়োজন। আছে শাড়ি, থ্রিপিস, ছেলেদের ফতুয়া, মেয়েদের ফতুয়া, স্কার্ট-টপস, পাঞ্জাবি ও টি-শার্ট। সব কিছুতেই প্রকৃতির সব উজ্জ্বল রঙের ছড়াছড়ি।

rupcare_boshonto shaj3

তবে ফাল্গুনের শাড়িতে বাসন্তী ও হলুদ রঙের আধিক্য বেশি। তবে নতুন পাতার রং সবুজও এসেছে শাড়ির ডিজাইনে। তবে পাশাপাশি লাল-কমলা রঙকেও গুরুত্ব দেয়া আছে।

সালোয়ার-কামিজ, শার্ট, পাঞ্জাবির ক্ষেত্রেও একই অবস্থা। বসন্তে যেহেতু ফুলের উপস্থিতি বেশি থাকে, তাই ডিজাইনে ফুলকে প্রাধান্য দিতে পারেন। সুতি কাপড়ে কাজের মাধ্যম হিসেবে চুনরি, টাই-ডাই, ব্লক-স্প্রে, অ্যাপলিক, কাটওয়ার্ক, স্ক্রিন, হ্যান্ডপেইন্ট, বাটিক, ভেজিটেবল রং, কারচুপি, অ্যামব্রয়ডারি, চুমকির কাজ ও মেশিন অ্যামব্রয়ডারি ইত্যাদিও এখন বেশ জনপ্রিয়।

তথ্যসূত্র: মানবকণ্ঠ
ছবি কৃতজ্ঞতা: রঙ, অঞ্জন’স, নগরদোলা