‘প্রতিদিনই ধর্ষিত হচ্ছি’

ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী বাঁধন। ২০০৬ সালে লাক্স চ্যানেল আই সুপারস্টার প্রতিযোগিতায় রানার আপ হওয়ার মাধ্যমে পরিচিতি লাভ করেন। নিজের বয়সের থেকে প্রায় বিশ বছরেরও বড় মাশরুর সিদ্দিকী সনেটকে ভালোবেসে বিয়ে করেন ২০১০ সালে।

বাঁধনের ভাষায়, ‘আমার মা আমার চেয়ে ১৭ বছরের বড়। আর সনেট ছিলো আমার মায়ের থেকেও বড়। স্রেফ সার্টিফিকেটেই আমার চেয়ে বিশ বছরের বড় সে। তবুও তাকে বিয়ে করেছিলাম ভালোবেসেছিলাম বলে। মনে হয়েছিলো সে একজন সুখী সংসারী মানুষ হবে। কিন্তু সেই ধারণা আমার ভুল ছিলো।’

২০১০ সালে বিয়ে করা বাঁধনের সংসারটি ভেঙ্গে যায় ২০১৪ সালে।

রবিবার (২৮ অক্টোবর) ছিল বাঁধনের জন্মদিন। সেদিন তাঁর ব্যস্ততা, আগামী দিনগুলোতে অভিনয়ের পরিকল্পনাসহ নানা বিষয়ে দেশের প্রথম সারির একটি গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। তার চুম্বক অংশ পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হল-

বাঁধনকে প্রশ্ন করা হয়, ‘হলিউড আর বলিউডে ‘#মি টু’ আন্দোলন শুরু হয়েছে। আপনাকে এই ধরনের কোনো অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয়েছে?’

উত্তরে তিনি বলেন, ‘শুনছি তো অনেক কিছুই। আমার বয়স এখন ৩৪। বুদ্ধি হওয়ার বয়স থেকে এখন পর্যন্ত এ রকম অনেক নিপীড়নের শিকার হয়েছি। মাকে বলতেও পারিনি। এখন অবশ্য আমার মেয়েকে এসব সম্পর্কে শেখাই। আমাদের এখানে মেয়েদের সেই অর্থে কোনো কিছু বলতে দেওয়া হয় না। মেয়েদের প্রতিবাদ কীভাবে করতে হয়, তা যদি ছোটবেলা থেকে শেখানো হতো, তাহলে ‘#মি টু’ পর্যন্ত যাওয়ার প্রয়োজন হতো না। আমাদের সময় বলা হতো, চেপে যাও চেপে যাও। এই চেপে যাওয়াকে প্রতিপক্ষ দুর্বল ভেবে আরও সুযোগ নেয়। আমরা ঢাকার চাঁদনি চক মার্কেটে যাই, ভিড়ের মধ্যে কত নোংরা হাত যে গায়ে চলে এসেছে! এই ঘটনা কিন্তু সব জায়গায় ঘটে। কোথায় বাদ দেবেন। শুধু মিডিয়াকে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন কেন? নায়িকাদের সবকিছু শুনতে খুব মজা লাগে? এই জায়গাটা নষ্ট জায়গা প্রমাণ করতে মজা লাগে? নষ্ট তো আসলে সব জায়গা।’

ফের প্রশ্ন করা হয়, ‘অভিনয় করতে এসে কখনো এমন আপত্তিকর অভিজ্ঞতা দেখতে হয়েছে?’

বাঁধন বলেন, ‘সবাই জানেন, আমি সব সময় প্রতিবাদী। ‘লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার’ প্রতিযোগিতায় নাম লেখানোর পর সবাই তা টের পেয়েছেন। আমি নানাভাবে যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছি। অস্বীকার করে লাভ নেই। আমি কোথাও গেছি, আপত্তিকর মন্তব্য শুনেছি—এটাও তো একধরনের নিপীড়ন। চোখ দিয়েও তো প্রতিদিনই ধর্ষিত হচ্ছি। আমাদের এখানে চোখের সমস্যা, মনের সমস্যা। তা না হলে কেন শিশুরাও ধর্ষিত হবে! আপত্তিকর প্রস্তাবে অনেক কাজ বাদ দিয়েছি। যেখানে কিছু বিকিয়ে দিতে হবে, সেখান থেকে ফিরে এসেছি। কেন জানি, আমি সবকিছু আগে থেকে বুঝে যাই। ভালো মানুষ হঠাৎ করে শয়তান হয়েছে, এমনটা দেখা যায় না। শয়তান যারা, তারা প্রমাণিত শয়তান।’