প্রাণের বৈশাখী

|রূপ-কেয়ার ডেস্ক|

rupcare_boishakh day

ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সারা বাংলার মানুষ যে আনন্দ উত্সবটি একসাথে পালন করে তার নাম পহেলা বৈশাখ। শত বছর ধরে পহেলা বৈশাখ নির্ধারিত হয়ে আসছিল বাংলা পঞ্জিকা অনুসারে। আজ বাংলা নতুন বছর ১৪২১। পুরোনো দিনের দুঃখ-স্মৃতি মুছে ফেলে প্রতিটি বাঙালি যেন নতুন স্বপ্ন ও আশা নিয়ে নববর্ষের সঙ্গে যাত্রা শুরু করে। নববর্ষ এলেই তাকে স্বাগত জানাতে আমরা প্রথম দিনটিতে পান্তা-ইলিশ খাই। মেতে উঠি দেশীয় আরও নানা খাবার এবং বাদ্যবাজনায়। তেমনি প্রিয়জনকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানাতে দিই নানা উপহার, কার্ড। ব্যবসায়ীরাও তাদের পুরোনো হিসাব-নিকাশ বন্ধ করে আবার নতুন হিসাবের খাতা খোলেন। যারা দিনের শুরুতে জানতে চান, আজ দিনটি আপনার জন্য শুভ কি না, তারাও নববর্ষে কিনে নেবেন নতুন পঞ্জিকা।

হালখাতা
আসছে বাংলা নতুন বছর। আর বাঙালির ঐতিহ্য অনুসারে ব্যবসায়ীদের কাছে দিনটি হালখাতা হিসেবে উদযাপিত হয়। অবশ্য অনেক জায়গায় সনাতনি পঞ্জিকা মতে, পহেলা বৈশাখের পরের দিন হালখাতার আয়োজন করা হয়। দোকানে দোকানে বিক্রেতারা নতুন বছরের জন্য নতুন হিসাবের খাতা খুলবেন। সেই সঙ্গে সহযোগী, অংশীদার ও ক্রেতাদের মিষ্টিমুখ করাবেন। বিগত বছরের বকেয়া পরিশোধের মাধ্যমে ক্রেতা-বিক্রেতা সম্পর্কের নবায়ন হবে। ব্যবসায়ীরা নববর্ষের প্রথম দিনে নতুন হিসাব খাতা খোলেন। নতুন এই হিসাব খাতাই হলো হালখাতা। এতে তারা গ্রাহকদের দায়-দেনার যাবতীয় তথ্য লিপিবদ্ধ করেন। পুরোনো বছরের খাতার হিসাব বন্ধ করে দেন। হালখাতা খোলার রীতি শুধু পুরান ঢাকায়ই নয়, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও প্রচলন আছে। হালখাতা খোলার জন্য বাজারে বহু ধরনের খাতা বা টালি পাওয়া যায়। ব্যবসার ধরন, পরিধি ও গ্রাহকের ওপর নির্ভর করে তারা হালখাতা কিনে থাকেন। অনেকে আবার পরিবারের নানা হিসাব-নিকাশও লিখে রাখতে ব্যক্তিগতভাবে এই খাতা সংগ্রহ করেন। এসব খাতার দাম ন্যূনতম ১২০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। তবে ১৫০, ২০০ কিংবা ২৫০ টাকার মধ্যে আপনি সুন্দর হালখাতা কিনে নিতে পারেন। এসব হালখাতা আপনি পাবেন বাংলাবাজার, চকবাজার ও নিউমার্কেট এলাকার কয়েকটি দোকানে। নতুন বছর, নতুন খাতায় হিসাব শুরু করবেন অনেকেই। এ যেন একেবারেই আমাদের দেশীয় রীতি।

পঞ্জিকা
দিনের শুরুটা করার আগে আমরা অনেকেই একবার পঞ্জিকা দেখে নিই। আজ দিনটি কি শুভ? গ্রহ-নক্ষত্রের কতটা প্রভাব আছে? আমার জন্য দূরের যাত্রা কতটা ভালো? এমন চিন্তা থেকেই নতুন বছরের শুরুতে অনেকেই পঞ্জিকা সংগ্রহ করবেন। পঞ্জিকায় দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজনীয় অনেক তথ্যই দেওয়া থাকে। দিনপঞ্জি, বৃষ্টি গণনা, খনার বচন, রাশিফল, চন্দ্র ও সূর্যগ্রহণ থাকে পঞ্জিকায়। বাজারে তিন-চার রকমের পঞ্জিকা বেশি চলে। সেগুলো হচ্ছে লোকনাথ, নবযুগ, মোহাম্মদীয়া পঞ্জিকা। পঞ্জিকাগুলো আবার ছোট্ট, মাঝারি ও বড় আকারের হতে পারে। বাংলাদেশের প্রায় সব বইয়ের দোকানেই পঞ্জিকা পাওয়া যায়। তাই যারা পঞ্জিকা কিনতে চান, আশপাশের বইয়ের দোকানে খোঁজ নিতে পারেন।

কার্ড
বাংলা সংস্কৃতিতে নববর্ষে প্রিয়জনকে কার্ড দেওয়ার আবেদন চিরায়ত। আধুনিক প্রযুক্তি, ই-মেইল, ফেসবুক অথবা মুঠোফোনের ক্ষুদে বার্তা (এসএমএস) কিছুই যেন নববর্ষের কার্ডের আবেদন কমাতে পারেনি। বিশেষ করে তরুণ-তরুণীদের কাছে এর চাহিদা অনেক। উপহার হিসেবে কার্ডের গ্রহণযোগ্যতা অনেক। আর প্রিয়জন কাছে থাকুক আর দূরে থাকুক, নতুন বছর আসার আগেই প্রিয়জনকে কার্ডে মনের কথা লিখে পাঠিয়ে দেওয়া হয় তার ঠিকানায়। নববর্ষের শুভেচ্ছা হিসেবে কার্ড প্রথা বাঙালির অনেকদিনের। আর তাই কার্ড তৈরি ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিবছরের মতো এবারও নানা শুভেচ্ছা বার্তাসহ নানা বৈচিত্র্যের নকশা ছবি রাঙিয়ে নিয়ে এসেছে বাহারি নববর্ষ কার্ড। কার্ডের সবচেয়ে বড় বাজার হচ্ছে বাংলা বাজার, পুরানা পল্টন। আইডিয়াল প্রোডাক্টস, আজাদ প্রোডাক্টসসহ বড় সব প্রতিষ্ঠানই তৈরি করেছে নানা রকমের কার্ড। এ ছাড়া আর্চিস, হলমার্ক, আইসকুল, প্রবর্তনাসহ নামি সব বুটিক হাউসে পাবেন সুন্দর ও ব্যতিক্রমী কার্ড। একটি কার্ডের মূল্য যা-ই হোক না কেন, নতুন বছরে প্রিয়জনের দেওয়া কার্ড হয়ে ওঠে এক অমূল্য প্রাপ্তি।

তথ্যসূত্র: ইত্তেফাক