বিয়ের আগে যে কথাগুলো বলা উচিত -২

বিয়ের আগে আপনার সারাজীবনের সঙ্গীটির সাথে কিছু কথা না বললে হয়তে দুজন দুজনার অনেক কিছুই অজানা রয়ে যেতে পারে। যেহেতু সম্পর্কটা সারা জীবনের তাই দুদিক থেকেই স্বচ্ছ থাকা প্রয়োজন। আজ গত পর্বের ধারাবাহিকতায় সেসব কথা নিয়ে শেষ পর্ব।

১১. মূল্যবোধ


প্রত্যেকেরই নিজস্ব কিছু মূল্যবোধ থাকে। যদিও বেশিরভাগ মূল্যবোধে খুব একটা পার্থক্য থাকেনা। তবে যে বিষয়টি আলোচনা করা দরকার তা হলো প্রত্যেকের গুরুত্বপূর্ণ মূল্যবোধগুলোকে সম্মান প্রদর্শন করা এবং কোনগুলো আপনারা পারিবারিক ভাবে পালন করবেন।

১২. ভালবাসার প্রকাশ


আমারা প্রত্যেকে ভালবাসা গ্রহন করি ভিন্নভাবে। কেউ কেউ ভালবাসা অনুভব করে আপনি যদি তাকে সবসময় ভালবাসার কথা বলেন। আবার কেউ আছে আপনার কর্মকান্ডে ভালবাসা খুজে নিতে পছন্দ করে। দুজনের ভালবাসার এই দিকটি শুরুতেই খুজে বের করতে হবে।

১৩. ঘরের কাজ


এখন আর আগের অবস্থা নেই যে স্বামী সারাদিন কাজকর্ম করে বাসায় ফিরবে আর স্ত্রী বাসার কাজ সামলাতেই সারাদিন পার করবে। যদিও সবকিছুর পরেও ঘর সামলানোর বড় দায়িত্বটা স্ত্রীর কাঁধেই রয়ে যায়। তারপরও অনেক দায়িত্ব আছে যেগুলো শেয়ার করে নিলে দুজনের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বৃদ্ধি পায়।

১৪. বাজেট


শুধু অর্থনৈতিক অবস্থা নিয়ে আলোচনা করাই যথেষ্ট নয়। আপনাদের প্রতিটি কাজ করতে হবে একটি বাজেটের মাধ্যমে। আয়ের সাথে সংগতি রেখে ঠিক করতে হবে প্রতি মাসের বিভিন্ন খাতের খরচ। এটি করতে পারলে সাংসারিক অনেক তুচ্ছ কলহ সহজেই দূর করা যায়।

১৫. আবসর সময়


আমরা একেক জন একেক ভাবে অবসর সময় কাটাতে পছন্দ করি। কেউ বই পড়ে, কেউ টিভি দেখে কেউবা সৃষ্টিশীল কোন কাজে। কেউ যাতে কারো অবসর সময় কাটানোর ভঙ্গি দেখে বিরক্তবোধ না করে, সেজন্য এমন কোন পদ্ধতি খুজে নিতে হবে যাতে তা দুজনের জন্যই রুচিসম্মত হয়।

১৬. মাতা-পিতা হিসাবে ভূমিকা


সন্তান লালন-পালনে মা-বাবা হিসাবে আপনাদের ভূমিকা কেমন হবে এটিও ঠিক করে নেয়া জরুরী। এক্ষেত্রে কেউ রক্ষণশীল ভাবে আবার কেউ উদারভাবে সন্তান পালনে বিশ্বাসী। এখানে কোন পদ্ধতি ভালো বা কোনটি খারাপ এই বিষয়টি মুখ্য নয়। যাতে সন্তানদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরী না হয় তাই আগেভাগেই এটি ঠিক করে নেয়া উচিত।

১৭. ঝগড়া করবেন কিভাবে


সংসারে একটু ঝগড়া-ঝাটি, মান-অভিমান হতেই পারে। তবে যাতে সেই ঝগড়া-ঝাটি নোংরামিতে পরিণত না হয় সে ব্যাপারে সজাগ থাকতে হবে। স্বামী-স্ত্রী হিসাবে কার মন খারাপ থাকলে সে কেমন আচরণ করবে তা সম্পর্কে আগে থেকেই ধারনা নিয়ে রাখতে হবে।

১৮. ক্ষমা করার পদ্ধতি


কোন মন-মালিন্যের পর আপনারা কিভাবে একজন আরেকজনকে ক্ষমা করবেন? আপনি কি জানেন আপনার সঙ্গী কোন কাজটিকে ক্ষমার অযোগ্য মনে করে? এই ব্যাপারগুলো জেনে রাখা সাংসারিক জীবনকে অনেক সহজতর করতে পারে।

১৯. বিশ্বাস


আপনারা কি একজন আরেকজনকে বিশ্বাস করেন? স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের মধ্যে সম্পর্ক কিন্তু বিশ্বাসের ওপরই গড়ে ওঠে। সম্পর্ক শুরুর আগেই বিশ্বাস-অবিশ্বাসের ঝামেলাগুলো মিটিয়ে ফেলুন। মনে রাখবেন অবিশ্বাসের বীজ পুষে রাখলে তা একসময় বিষবৃক্ষে পরিণত হতে পারে।

২০. হিংসাকে এড়িয়ে চলা


হিংসা যে কোন সম্পর্ককে অবনতির দিকে নিয়ে যেতে বড় ভূমিকা পালন করে। মানুষ হিসাবে আমরা কোনকিছুরই উর্ধ্বে নই। এজন্য বিভিন্ন ব্যাপার নিয়ে আমাদের হিংসা হতেই পারে। যেমন স্বামী যদি স্ত্রীর কাছে অন্য কোন নারীর প্রশংসা করে কিংবা স্ত্রী যদি স্বামীর কাছে অন্য কোন লোকের সম্পদের বাহুল্য তুলে ধরে ইত্যাদি। আপনাদের কারো মধ্যে যদি কোন কিছু নিয়ে হিংসা থেকে থাকে তাহলে একে অপরকে জানিয়ে দিন, যাতে সেই বিষয়গুলো দুজনই এড়িয়ে চলতে পারেন।

আসলে বিয়ের আগে এই বিষয়গুলো আলোচনা করার উদ্দেশ্য মানে বিয়ের প্রতি ভীতি তৈরী করা নয়। যেহেতু বিয়ে আমাদের জীবনে খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় এবং কোন না কোন সময় প্রায় সবাই বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হবেন, তাই এই নতুন জীবনটিকে সুন্দর করে তোলাই আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত। একজন আরেকজনকে যতো ভালভাবে জানবেন সম্পর্কটা ততোই মধুর হবে।

লেখক: নীলা খানম
মনোবিজ্ঞান, ইডেন কলেজ

আগের পর্ব দেখুন: বিয়ের আগে যে কথাগুলো বলা উচিত -১

facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedin