বৈশাখী আয়োজনে আড়ং ও কে ক্র্যাফট

|রূপ-কেয়ার ডেস্ক|

প্রকৃতিতে বৈশাখের আগমনী সুর ইতিমধ্যে বেজে ওঠা শুরু হয়ে গেছে। বর্ষবরণের প্রস্তুতিও চলছে ঘরে ঘরে। এর থেকে পিছিয়ে নেই দেশের নামকরা ফ্যাশন হাউজগুলো। নানা রঙের পোশাকের সমারহে সাজিছে তাদের আউটলেটগুলো। নববর্ষ যতো ঘনিয়ে আসছে ক্রেতাদের ভিড়ও বেড়েই চলছে। আসুন দেখে নেয়া যাক এবছর আড়ং ও কে ক্র্যাফট আপনাদের জন্য কি নিয়ে এসেছে।

আড়ং

rupcare_aarong 5

এই প্রতিষ্ঠানের তাসনিম বলেন, “লম্বা হলেও কামিজের ঝুলের কাটিংয়ে এসেছে পরিবর্তন। যেমন ওভাল সেইপ এবং মুন সেইপ। আর বিশ্বজুড়ে যেমন চলছে উজ্জ্বল রংয়ের সমাহার, দেশীয় পোশাকেও চলছে সেই ধারা।”

দেশীয় তৈরি পোশাক বিক্রেয়ের প্রতিষ্ঠান আড়ং বৈশাখ উপলক্ষ্যে নিয়ে এসেছে উজ্জ্বল রংয়ের সালোয়ার কামিজ। তবে গরমের কথা চিন্তুা করে পোশাকে ব্যবহার হয়েছে সুতি ও হ্যান্ডলুমের কাপড়।

তবে যেসব পোশাকের রং হালকা, সেগুলোর দোপাট্টার রং গাঢ়। এসব ওড়নার মান বাড়ানোর জন্য ব্যবহার হয়েছে কাপড়ের টুকরা, ঝালর বা আয়না।

সালোয়ার কামিজ ছাড়াও রয়েছে তাগা। আরও আছে নানান ছাঁটের রঙিন প্যান্ট।

গ্রীষ্ম মৌসুমে সবসময়ে পরার উপযোগি ছেলেদের নানান ধরনের টি-শার্ট রয়েছে। উৎসবে পরার জন্য রয়েছে ফতুয়া ও কুর্তা। পাঞ্জাবি রয়েছে ‘স্লিম ফিট’ ও ‘নরমাল ফিট’।

আড়ংয়ের এসব পোশাকের দামও রয়েছে হাতের নাগালে। সালোয়ার কামিজ ২ থেকে ৪ হাজার টাকা। তাগা ৫শ’ থেকে ১৫শ’ টাকা। কুর্তা, ফতুয়া ও টি-শার্ট পাওয়া যাবে ৩শ’ থেকে ৬শ’ টাকার মধ্যে।

কে ক্র্যাফট

rupcare_kaykraft4

বাংলা নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে ক্রেতাগোষ্ঠির সামনে উপস্থাপন করেছে নতুন নতুন ডিজাইনের শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ, টপ্‌স, পাঞ্জাবি, ফতুয়া, শার্ট, টি-শার্ট, শিশুদের পোশাক, গহনা, গিফ্‌টস ও গৃহসজ্জার সামগ্রী। নিয়ে বৈশাখি আয়োজন। পোশাকে ব্যবহার হয়েছে লাল, মেরুন, কমলা, সাদা, অফহোয়াইট, ম্যাজেন্টাসহ নানান রং। পোশাক ও অনুষঙ্গে এদেশের চিরাচরিত ফোক মোটিফয়ের উপর নিরীক্ষাধর্মী নকশা ব্যবহার করা হয়েছে।

শাড়িতে বৈশাখের বিষয় হিসেবে নানারকম ভিন্নতা আনা হয়েছে। পটচিত্র, ট্রাইবাল মোটিফ, গ্রিক আর্চ মোটিফ, ফ্লাওয়ার মোটিফ ইত্যাদি বিষয়। বোনা তাঁতের শাড়িতে মার্জিত রংয়ে ব্লকপ্রিন্ট, স্ক্রিনপ্রিন্ট, এল্পিক, হাজার-বুটির কাজ করা হয়েছে। এছাড়া কিছু শাড়িতে রয়েছে এমব্রয়ডারি। প্রধানত টাঙ্গাইল ও সিরাজগঞ্জে নিজস্ব ডিজাইনে শাড়িগুলো বোনা।

মানিকগঞ্জের বোনা এন্ডি শাড়ির সঙ্গে চাপাইনবাবগঞ্জের বলাকা সিল্কের মিশ্রণে তৈরি শাড়িতে ব্লকপ্রিন্ট, স্ক্রিনপ্রিন্ট, এল্পিক, হাজার-বুটি, এমব্রয়ডারি, চুমকি-পুতি, ভরাট ও কাঁথা স্টিচের কাজ করা হয়েছে।

নরসিংদীর তাঁতে বয়নকরা সুতি টুটন স্ট্রাইপ, টুইল, গুড়িচেক, নাচনাকাঠি, কাঁথা, ডবি ও জ্যাকার্ড নকশায় করা নিজস্ব বুনন নকশায় কাপড় এবং ইয়ার্ন ডায়েড, এন্ডি ও জয়সিল্কয়ের মিশ্র্রণে সালোয়ার কামিজে থাকছে বৈশাখি আয়োজন। রং হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে কোড়া, সাদা, লাল, মেরুন, ইটলাল, অরেঞ্জ, ম্যাজেন্টার নানান পরশ।

ফতুয়া ও টপসে ছাঁটের বৈচিত্র্য। নকশায় হাতের কাজে শেইডওয়ার্ক, কাঁথাকাজ, মানিকগঞ্জের ভরাট, এপলিকয়ের কাজ করা হয়েছে।

সুতি এন্ডি ও সিল্কে হাতের কাজ ও এমব্রয়ডারি কাজের পাঞ্জাবি থাকছে সাদা, মেরুন, ইটলাল, কালোসহ নানা রংয়ে। প্রধানত জ্যামিতিক নকশায় কাঁথা, সাটিন স্টিচয়ে অলংকৃত এই সমাহার সব বয়সী ক্রেতাকেই আকৃষ্ট করবে। আরও রয়েছে ছেলেদের ফতুয়া ও শার্ট।

এদের বৈশাখী আয়োজনের একাংশ: