বয়ফ্রেন্ডের উপর নজর রাখতে “বয়ফ্রেন্ড ট্র্যাকার অ্যাপ” !

|রূপ-কেয়ার ডেস্ক|

rupcare_bf tracker0

আপনার ছেলেবন্ধু কখন কোথায় যায়? কার সঙ্গে কি আলাপ করে? কিংবা কে তাঁকে কি ম্যাসেজ পাঠায়? যাদের মনে এরকম সংশয় রয়েছে, তাদের জন্য সুখবর! সম্প্রতি ব্রাজিলের এক নির্মাতা মোবাইল ফোনের এরকমই একটি অ্যাপ তৈরী করেছেন। ইতিমধ্যে নিজের বয়ফ্রেন্ডের তথ্য গোপনে জানতে অনেকেই ব্যবহার করছেন ‘বয়ফ্রেন্ড ট্র্যাকার’ অ্যাপ৷ অবশ্য এই অ্যাপ নিয়ে চলছে ব্যাপক বিতর্ক৷

বিতর্ক মূলত ব্রাজিলে৷ কেননা সেখানেই দ্রুত জনপ্রিয়তা পাচ্ছে ‘বয়ফ্রেন্ড ট্র্যাকার’৷ অবস্থা বেগতিক দেখে গুগল তার স্টোর থেকে অ্যাপটি সরিয়ে ফেলেছে৷ এজন্য প্রতিষ্ঠানটি কোনো কারণ ব্যাখ্যা না করলেও ধারণা করা হচ্ছে, এই অ্যাপ গোপনীয়তা সংক্রান্ত আইন লঙ্ঘন করছে৷

নির্মাতা মাথিয়ুস গ্রিজোর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মাত্র দু’মাস আগে প্রকাশ করা হয় অ্যাপটি৷ আর এরই মধ্যে পঞ্চাশ হাজারের মতো মানুষ সেটি ব্যবহার শুরু করেছে৷

rupcare_bf tracker4

মার্সিয়া আলমাইদার বয়স ৪৭ বছর৷ রিও ডি জানিরোর এই বাসিন্দা বলেন, ‘‘ব্রাজিলীয়রা কুচুটে স্বভাবের, কি আর বলবো? নিঃসন্দেহে অ্যাপটি জনপ্রিয়তা পাবে৷” বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগে সাত বছর আগে নিজের স্বামীকে ত্যাগ করেছেন আলমাইদার৷ তিনি এই অ্যাপের কার্যক্রমকে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা সংস্থার (এনএসএ) নজরদারির সঙ্গে তুলনা করে বলেন, ‘‘এটা ভিন্ন ধরনের গোয়েন্দাগিরি৷ আপনি আপনার ঘনিষ্ঠ একজনের উপর নজরদারি করছেন, অপরিচিত কারো উপর নয়৷”rupcare_bf tracker2

বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, গ্রিজোর এই উদ্ভাবন ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বিষয়ক আইন লঙ্ঘন করে থাকতে পারে৷ তাছাড়া ছেলেবন্ধুর উপর নজরদারির বিষয়টি হাস্যরসের হলেও বিপজ্জনক কাজেও অ্যাপটি ব্যবহার করা যেতে পারে৷ বিশেষ করে এটি একজন ব্যক্তির অবস্থান তাঁর নিজের অজান্তেই অন্যকে জানাতে পারে৷ যাঁর উপর নজর রাখা হচ্ছে তাঁর মোবাইলে আসা বা মোবাইল থেকে যাওয়া ক্ষুদেবার্তা অন্য কোনো ফোনে ফরওয়ার্ড করতে পারে৷ সর্বোপরি যে ফোনে অ্যাপটি সেটআপ করা হয়েছে, সেটি ব্যবহারকারীর অনুমতি ছাড়াই নিরবে অন্য কোনো ফোনে কল করতে পারে৷ এতে করে নজরে থাকা ব্যক্তির কথোপকথনও অন্য কেউ শুনতে পারবে৷

ডেভেলপার গ্রিজো অবশ্য মনে করেন, তাঁর অ্যাপ কোনো ধরনের গোপনীয়তা আইন লঙ্ঘন করছে না৷ তাই গুগল তাদের স্টোর থেকে অ্যাপটি সরিয়ে ফেললেও গ্রিজোর ওয়েবসাইটে সেটি এখনো রয়েছে৷

বোঝা যাচ্ছেনা অ্যাপটির ভবিষ্যৎ কি দাঁড়াবে। তবে আর যাই হোক এটি কারো জীবনে হাস্যরস যোগানো থেকে শুরু করে মারাত্মক পরিণতি বয়ে আনতে পারে তা নি:সন্দেহে বলা যায়।

facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedin