ভবিষ্যতের ভালবাসা

|নুসরাত নীলিমা|

future love

“চিঠির উত্তর দিস রে বন্ধু যদি মনে লয়/ কাগজ গেল দিস্তা দিস্তা/ কলম গোটা ছয়” এমন একটা সময় ছিল যখন ভালবাসা প্রকাশের একমাত্র মাধ্যম ছিল চিঠি। পৃথিবী বিখ্যাত যত যুগলের কথা আমরা জানি, সবারই ভাব বিনিময়ের মাধ্যম ছিল চিঠি। রোমিও-জুলিয়েট, শিরি-ফরহাদ কিংবা লাইলী-মজনু এদের সবাই অপেক্ষায় থাকতো প্রিয়জনের কাছ থেকে একটি চিরকুটের আশায়, যেখানে লেখা থাকবে “আমি তোমাকে ভালবাসি” – এই দেখে তাদের মনে ভালবাসার শীতল স্পর্শে সারাক্ষণ ছুয়ে যেত।

যুগে যুগে পরিবর্তন হয়েছে অনেক কিছুরই, কিন্তু ভালবাসার সংজ্ঞার কোন পরিবর্তন হয়নি। গত একশ বছরে প্রযুক্তির ব্যপক উন্নতি ঘটেছে। তথ্য-প্রযুক্তির উন্নয়ন শুরু হয়েছিল রেডিও থেকে, যা এখন ইন্টারনেট আর সোশাল নেটওয়ার্কিং এ এসে পৌছেছে। ভবিষ্যতে থ্রিজি, ফোর জি অতিক্রম করে তা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে বিধাতাই তা ভালো জানেন।

একসময় ছিল যখন কারো সাথে বন্ধুত্ব করতে গেলে শত যাচাই-বাছাই করে তারপর সিদ্ধান্ত নিতে হতো। আর এখন ফেসবুকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠিয়ে দিলেই কাজ শেষ। চোখের পলকেই বন্ধুত্ব। তথ্য-প্রযুক্তির কল্যাণে আজকাল নাদেখেই মোবাইলের মাধ্যমে প্রেম-ভালবাসা তো নিত্য ঘটনা। ইন্টারনেটের মাধ্যমে দূর দেশের মানুষের সাথেও মনের মিল খুজে পাওয়া যায়।

দিন-রাত ফ্ল্যাট রেটে মোবাইলে কথা বলেও যুগলদের সাধ মিটছেনা। ক্ষণে ক্ষণে স্কাইপি আর ই-মেইলে চলছে ছবির আদান-প্রদান। আগে পাড়ায় নতুন কোন মেয়ে এলে তার সাথে কথা বলা তো দূরে থাক তার নাম জানতেও অনেক কাটখড় পোড়াতে হতো। কিন্তু এখন থ্রিজির কল্যাণে তার বেডরুম পর্যন্ত পৌছানোও কোন কঠিন কাজ নয়।

এখন আর প্রেমের কবিতা লিখতে ধরতে হয়না কলম, ঘামাতে হয়না মাথার চুল। নেটে সার্চ দিলেই লক্ষকোটি ভালবাসার পঙ্‌তি চোখের সামনে ভেসে ওঠে। ভালবাসার কথা এস.এম.এস এর মাধ্যমে নিমেষেই পৌছে যায় এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তে।

তথ্যপ্রযুক্তির উন্নয়নের এই অব্যহত ধারায় একসময় হয়তো দূরে থাকা প্রিয়জনকে অনুভব করারও কোন প্রযুক্তি আমাদের হাতের নাগালে চলে আসবে। ভালবাসায় থাকবেনা কোন জাতি, ধর্ম, বর্ণের বাধা। পুরো পৃথিবীটাই মনে হবে একদেশ। তবে পরিস্থিতির যতোই পরিবর্তন হোক না কেন, প্রকৃত ভালবাসা সবসময় অটুট থাকে। ভালবাসুন এবং ভালবাসতে থাকুন।

facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedin