মুসলিম ভাবধারার সুন্দরী প্রতিযোগিতা “ওয়ার্ল্ড মুসলিমাহ ২০১৩”: বাংলাদেশী লিজার কৃতিত্ব

|গসিপ ডেস্ক|

Sejumlah finalis World Muslimah meghadiri konferensi pers jelang grand final penganugerahan 3rd Annual Award World Muslimah 2013 di Jakarta,

ভিন্নধর্মী ও অভিনব এ সুন্দরী প্রতিযোগিতার আয়োজন হয় এবার মুসলিম বিশ্বের সুন্দরীদের নিয়ে। জনসংখ্যার দিক থেকে সবচেয়ে বড় মুসলিমপ্রধান দেশ ইন্দোনেশিয়া ‘ওয়ার্ল্ড মুসলিমাহ’ সুন্দরী প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। গতকাল বুধবার এই প্রতিযোগিতার গ্র্যান্ড ফিনালে অনুষ্ঠিত হয়। তারচেয়েও চমকপ্রদ খবর, এতে অংশ নিয়েছিলেন বাংলাদেশের মেয়ে নাজনীন সুলতানা লিজা।

rupcare_world muslimah2rupcare_world muslimah0

বাংলাদেশের হয়ে ‘মিস মুসলিম ওয়ার্ল্ড’ খেতাব জিততে ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তায় গেছেন ২১ বছর বয়সী নাজনিন সুলতানা লিজা। চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার দক্ষিণ ওয়াহেদপুরের ফিরোজ আলম ও জমিলা আক্তারের জ্যেষ্ঠ সন্তান লিজা। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের শেষ বর্ষে অধ্যয়নরত লিজা বাংলাদেশের একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ১০০ সুন্দরীর সঙ্গে এ প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন। যেখানে সর্বশেষ ২০ জনের মধ্যে থেকে চূড়ান্ত বিজয়ী নির্বাচিত হয়। প্রথমবারের মতো ইন্দোনেশিয়ায় আয়োজিত ‘ওয়ার্ল্ড মুসলিমা’ প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন- নাইজেরিয়া, মালয়েশিয়া, ব্রুনাই, ইরান, যুক্তরাষ্ট্র, বাংলাদেশেসহ আরো কয়েকটি দেশের সুন্দরী। তাদের মাঝ থেকে মিস নাইজেরিয়া ওবাবিয়ি আয়িশা আজিবোলা ‘ওয়ার্ল্ড মুসলিমাহ ২০১৩’ নির্বাচিত হন।

rupcare_world muslimah4

‘ওয়ার্ল্ড মুসলিমা’তে পুরস্কার হিসেবে থাকছে ২ কোটি ৫০ লাখ ইন্দোনেশিয়ান রুপিয়া বা ২ হাজার ২০০ ডলার। এর বাইরে বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে থাকছে সৌদি আরবে হজপালনসহ তুরস্ক ও ভারত ভ্রমণের সুযোগ।

বাংলাদেশের একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে গত ৮ সেপ্টেম্বর ইন্দোনেশিয়া যান লিজা। প্রতিযোগীতা সর্ম্পকে লিজা ইন্দোনেশিয়া থেকে তিনি সংবাদমাধ্যমে জানান, ‘প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পেরে আমি খুব খুশি৷ এটা ‘মিস ওয়ার্ল্ড’ এর মতো নয়। কারণ, মিস ওয়ার্ল্ড নির্বাচনের ক্ষেত্রে বাইরের সৌন্দর্যটা বেশি প্রাধান্য পায়। আর এখানে ভেতরের সৌন্দর্যটাই মুখ্য।’rupcare_world muslimah1

জানা যায়, মঞ্চে উঠে নিজেকে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসাবে পরিচয় করাতে গিয়ে গর্বে কেঁদে ফেলেছিলেন লিজা।
লিজার মা জমিলা আক্তার বলেন, ‘লিজার সহপাঠী তৃণার বড় বোন জেবার মাধ্যমে সে প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে। জেবা তিন বছর ধরে ইন্দোনেশিয়ায় অবস্থান করছে। এ প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়ার জন্য লিজাকে উৎসাহ দেয় জেবা। প্রাথমিকভাবে লিজার ছবি ইন্দোনেশিায় পাঠালে সে মনোনীত হয়।’

লিজার সাফল্যে স্থানীয় ওয়াহেদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সালাহ উদ্দিন সেলিম বলেন, ‘লিজা শুধু মিরসরাই নয় সমগ্র বাংলাদেশের গর্ব। আমি আশা করবো, সে প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়ে বিশ্বে দেশের ভাবমূর্তি আরো উজ্জ্বল করবে। যা আমাদের জন্য মাইলফলক হয়ে থাকবে।’

উল্লেখ্য, নজিরবিহীন এ প্রতিযোগিতায় প্রতিযোগীদের আসা-যাওয়ার খরচ বহন করছে আয়োজকরা।