যেভাবে সঞ্জয় দত্ত হয়েছিলেন রণবীর (ভিডিও)

701594-ranbir-kapoor-1-1695097171

ভারতীয় সিনেমার সব রেকর্ড ভেঙে এক সপ্তাহে সর্বোচ্চ আয়ের রেকর্ড গড়েছে রণবীর কাপুরের ‘সঞ্জু’। সঞ্জয় দত্তের জীবনের একাধিক আলোচিত ও বিতর্কিত ঘটনাকে পর্দায় তুলে ধরেছেন নির্মাতা রাজকুমার হিরানি। আর রঙিন জীবনের অধিকারী সঞ্জয় দত্তকে দারুণ সাবলীলভাবে ফুটিয়ে তুলে ক্যারিয়ারের সেরা অভিনয় উপহার দিয়েছেন রণবীর কাপুর আর নিজেকে সঞ্জয় দত্ত রূপে পর্দায় ফুটিয়ে তোলার জন্য রণবীর যা কিছু করেছেন, সম্প্রতি তা প্রকাশ পেল একটি ভিডিওতে।

‘সঞ্জু’ অর্থাৎ সঞ্জয় দত্ত হয়ে ওঠার চেষ্টাটা কিন্তু মোটেও সহজ ছিল না রণবীরের জন্য। সঞ্জয় দত্ত এমন একজন অভিনেতা, তাকে পর্দায় ফুটিয়ে তোলা পরিচালক রাজকুমার হিরানির কাছে একটা চ্যালেঞ্জ ছিল। হুবহু সঞ্জয় দত্তের মতো কাউকে খুঁজে বের করা তো সহজ বিষয় নয়। কারণ এই বয়সে এসে সঞ্জয় দত্তের পক্ষে তার নিজের বায়োপিকে অভিনয় করাও সম্ভব নয়। তাই কে হয়ে উঠতে পারেন সঞ্জয় দত্ত? তখন প্রস্তাব করা হয় রণবীর কাপুরের নাম। রণবীর প্রথমটা একটু সংশয়ে থাকলেও পরে তিনিও বিষয়টি চ্যালেঞ্জ হিসেবে নেন।

এরপর শুরু হয় রণবীরের ‘সঞ্জু’ হয়ে উঠার লড়াই। প্রথমে শরীর চর্চার মাধ্যমে সঞ্জয় দত্তের মতো করে শরীর তৈরি, তারপর লুক পরিবর্তন সবই করতে শুরু করেন রণবীর। আর তাকে এ বিষয়ে সাহায্য করেছেন বিদেশি মেকআপ শিল্পীরা। এই সিনেমায় সঞ্জয় দত্তের পাঁচটি লুকে হাজির হতে হয়েছে রণবীরকে। কিন্তু কীভাবে এই অসম্ভব সম্ভব হয়েছে, তা সম্প্রতি একটি ভিডিওতে প্রকাশ পেয়েছে।

সঞ্জু নির্মাতারা একটা ভিডিও শেয়ার করেছেন, যেখানে সঞ্জয় দত্ত হিসাবে রণবীর কাপুরকে গড়ে তুলতে কত রকম লুক পরীক্ষা করা হয়েছিল দেখা যাচ্ছে। ভিডিওতে পরিচালক হিরানি বলেন ‘সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল সঞ্জয় দত্তের ভূমিকায় কে অভিনয় করবে? কারণ এমন একজনকে প্রয়োজন ছিল যে তার মতো আচরণ করবে, তার মতো দেখতে হবে এবং তার মতোই অনুভব করবে।’ ২০১৬ সালের জানুয়ারি মাসে রণবীরের কাছে পরিচালকের প্রস্তাব পাওয়ার পর প্রত্তুত্যরে রণবীর লেখেন, ‘আশা করি এটা সঞ্জয় দত্তের বায়োপিক নয়।’

এরপর রণবীর জানান, একটা বিষয়ে তার ধারণা স্পষ্ট ছিল তা হলো, এই লুকটা অর্জন না করতে পারলে সিনেমাটা হবে না। প্রথম চ্যালেঞ্জ ছিল শারীরিকভাবে রণবীরকে সঞ্জয় দত্তে রূপান্তর করা। পরিচালক জানান, যথার্থ লুকের আগে বহু লুক বাতিল করেন তিনি। প্রস্থেটিক বিশেষজ্ঞরা রণবীরের লুকের জন্য প্রচুর পরিশ্রম করেন। পরপর বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ব্যর্থ হন তারা।

রণবীর জানান, ছয় ঘণ্টা চেয়ারে বসে ভাবা হতো এবার হয়তো কাঙ্ক্ষিত লুক পাওয়া যাবে। কিন্তু মাত্র তিরিশ সেকেন্ড সময়েই এক একটা লুক বাতিল হয়ে যেত। ছয় ঘণ্টার পরিশ্রম মুহূর্তে ভেস্তে যেত। কিন্তু যখন কাঙ্ক্ষিত লুকটা পাওয়া গেল তখন নির্মাতা জানান, তিনি যা চাইছিলেন পেয়ে গেছেন।

রণবীরের বাতিল হওয়া ছয়টা লুকই দেখা গেছে ভিডিওতে। শারীরিকভাবে সঞ্জয় দত্ত হয়ে উঠার পেছনের গল্প বলতে গিয়ে রণবীর বলেন, ‘আমি জিম ঘৃণা করি। কিন্তু যেহেতু কাজের জন্য প্রয়োজন ছিল তাই তিনমাস জিম করতে হয়েছিল। আমি অনেক সিনেমায় অভিনয় করেছি। এটাই প্রথম সিনেমা যেখানে আমি নিজের চেহারার সঙ্গে কিছু করার সুযোগ পেয়েছি। তাই আমি এটাকে একটা চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করেছিলাম।

দিনে আটবার খাচ্ছিলাম। ভোর তিনটায় উঠে প্রোটিন শেক খাচ্ছিলাম। যা কোনোদিন কল্পনাও করিনি। সঞ্জয় দত্তের সঙ্গে শারীরিক গঠন ওতপ্রোতভাবে জড়িত যা আমি নষ্ট করতে পারতাম না। সঞ্জয় দত্তের চরিত্রে অভিনয় করলে শরীরকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে নিতে হবে।’

প্রথম সপ্তাহ শেষেই সঞ্জু ২০০ কোটি রুপি বেশি আয় করেছে। সঞ্জয় দত্তের বায়োপিকে কেন্দ্রীয় চরিত্রে রণবীরের পাশাপাশি দিয়া মির্জা, আনুশকা শর্মা, সোনম কাপুর, ভিকি কৌশল,পরেশ রাওয়াল এবং মনীষা কৈরালা প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন।