যে তিনটি উপায়ে আপনার ঘর দূষিত হচ্ছে ভেতর জিনিসের মাধ্যমেই!

rupcare_your home is poisoning

ঘরকে পরিচ্ছন্ন রাখতে দরজা, জানালা, পর্দা, পরিষ্কারক থেকে শুরু করে বাইরের রোগ-জীবাণু আর ধুলো-ময়লাকে নিশ্চিহ্ন করতে সক্ষম প্রায় সমস্ত জিনিসকেই ব্যবহার করে দেখে মানুষ। সত্যিই তো! নিজের পরিবারকে সুস্থ রাখতে কে না চায়? আর সুস্থতার প্রথম আর দরকারী ধাপটিই হচ্ছে ঘর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা। কিন্তু আপনি কি জানেন যে, কেবল ঘরের বাইরের জীবাণু কিংবা ধুলোবালিই নয়, আপনার ঘর অপরিচ্ছন্ন আর নোংরা হচ্ছে প্রতিনিয়ত এর ভেতরেই উত্পন্ন হওয়া কিংবা আপনার সচেতনতার পরেও করে ফেলা কিছু মারাত্মক ভুলের কারণে। চলুন দেখে আসি সেগুলোকে।

১. সিগারেটের তৃতীয় চক্র

আমরা ভাবি যে, ধুমপান করলে সেটা তখনই আমাদের শরীর ও ঘরকে আক্রান্ত করে। কিংবা হতে পারে সরাসরি ধুমপান থেকে নয়, তবে অন্য কারো ধুমপান তার সামনের ব্যাক্তিকে সমস্যায় ফেলে দিতে পারে। তবে বাস্তবে বিজ্ঞানীরা জানান যে, আসলে এর পরেও আরেকটি ধুমপানের পর্যায় থেকে যায়। আর সেটি হচ্ছে সিগারেটের তৃতীয় চক্র। আপনি যদি কোন ঘরের ভেতরে সিগারেট খান তাহলে কেবল সেদিন নয়, বরং এর পরের কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত সেই ধোঁয়া ও ক্ষতিকারক পদার্থ ঘরের মেঝে, পর্দা, কার্পেটসহ অন্যান্য ব্যবহার্য জিনিসে লেগে থাকে। আর সেখান থেকে দূষিত হয় ঘর। তাই সিগারেট খাবার সময়েই কেবল নয়, বরং সেটার পরেও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ঘরকে পরিষ্কার করা উচিত।

২. শীততাপনিয়ন্ত্রকের ঝকমারি

এই প্রচন্ড গরমে হুটহাট করে ইচ্ছে হলেই ঘরকে ঠান্ডা রাখতে এসি ছেড়ে দেই আমরা। তবে আরো অনেক জিনিসের মতন এসিরও আছে বাজে আর ক্ষতিকর কিছু দিক। বলুন তো, কি সেটা? অতিরিক্ত বিদ্যুত্ বিল? একদম না! এরচাইতেও বড়সড় ঝামেলাকে এসি আপনার ঘরে নিয়ে আসে তার শীতল বায়ুর ভেতরে থাকা জীবাণুর মাধ্যমে। সেইসাথে এর বাতাস সেটাকে ভাসিয়ে নিয়ে যায় আপনার ঘরের প্রতিটি কোণায়। আর সবচাইতে ভয়ের ব্যাপার হল যত পুরোন এসি ঠিক ততটাই বেশি জীবাণু! তাই ঘরের এসিটিকে সামলে রাখুন।

৩. জানলা বন্ধ রাখা

শীতকালে প্রচুর শীত থেকে বাঁচিয়ে ঘরকে গরম রাখতে আর গরমকালে বাইরের রোদকে ঘরের ভেতরে না ঢুকতে দিয়ে ঘরকে ঠান্ডা রাখতে জানলাকে বেশিরভাগসময় বন্ধই করে রাখি আমরা। তবে এটি কিন্তু স্বাস্থ্যের জন্যে মোটেই সুবিধাজনক নয়। কারণ, এতে করে ঘরের ভেতরে নানা কাজে ব্যবহৃত সুগন্ধী, জীবাণু ও অন্যান্য জিনিস থেকে নির্গত হওয়া বিষাক্ত রাসায়নিকগুলো ঘরের বাইরে যেতে পারেনা। আটকে থাকে ঘরের ভেতরেই। তাই প্রতিদিন কম করে হলেও ১০ থেকে ১৫ মিনিটের জন্যে ঘরের জানলাকে খুলে দিন পুরোপুরি।

facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedin