শপিং এ জিততে চাইলে শুধরে নিন ৭টি ভুল

|রূপ-কেয়ার ডেস্ক|

কেনাকাটা করতে অনেকেই পছন্দ করেন। পাশাপাশি কেনাকাটার পেছনে ব্যয় নিয়েও অসন্তুষ্টি থাকে প্রায় সবারই। কেনাকাটায় ব্যয়কৃত এ অর্থ যদি একটু বিবেচনা করে ব্যবহার করা যায়, তাহলে অনেক লাভবান হতে পারবেন আপনি। এ লেখায় পাচ্ছেন কেনাকাটার বিষয়ে সাতটি সাধারণ ভুলের ধারণা। এ ভুলগুলো সংশোধন করলে আপনি কেনাকাটায় আরও দক্ষ হতে পারবেন।

১. প্রলোভনের নাম ‘সেল’
কেনাকাটার ক্ষেত্রে বহু ক্রেতাকেই বোকা বানায় ‘সেল’ নামের কমদামে পণ্য বিক্রির ফাঁদ। এ ফাঁদে ধরা দেওয়া ক্রেতাদের অন্যতম সাধারণ ভুল। অনেকেই কোনো পণ্য কেনেন শুধু এটি ‘সেল’-এ আছে বলেই। আপনি কি সেল-এ থাকার কারণে কোনো অপ্রয়োজনীয় পণ্য দোকান থেকে কেনেন? তার বদলে পরিষ্কার ধারণা নিয়ে যান, ঠিক কোন পণ্যটি আপনার প্রয়োজন। তবে প্রয়োজনীয় সঠিক পণ্যটি ‘সেল’-এ থাকলে তা কেনা কোনো ভুল কাজ নয়।

২. বন্ধুদের চাপে কেনাকাটা
বন্ধুদের সঙ্গে কোথাও কেনাকাটা করতে গেলে তা অনেকখানি উভয় সংকট তৈরি করে। একদিকে বন্ধুরা সঠিক জিনিসটি বেছে নিতে সাহায্য করতে পারে, অন্যদিকে তারা অনেক অপ্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে প্রভাবিত করতে পারে। এ কারণে আপনি যদি কেনাকাটার সময় বন্ধুদের পরামর্শ নেন কিন্তু সব সময় তাদের কথায় প্রভাবিত না হয়ে বিবেচনাবুদ্ধির আশ্রয় নেন, তাহলেই সবচেয়ে ভালো করবেন।

৩. ভবিষ্যতের সাইজে পোশাক কেনা
আমরা অনেকেই বর্তমানের চেয়ে কিছুটা ছোট বা বড় পোশাক কিনে থাকি। অনেকেরই আশা থাকে ভবিষ্যতে কিছুটা স্লিম হওয়ার। সে আশাতে কিছুটা টাইট পোশাক কেনাকাটা করা হয়। কিন্তু বাস্তবে তা হয়ে ওঠে না। ফলে পোশাকটিও পরা হয় না। তাই সবচেয়ে ভালো বুদ্ধি হলো, আপনার বর্তমান সাইজ অনুযায়ী পোশাক কেনা। ভবিষ্যতে আপনার সাইজ পরিবর্তন হলে তখন নতুন সাইজ অনুযায়ী পোশাক কিনতে পারেন।

৪. মানের সঙ্গে আপোষ
সংখ্যা ও মানের মধ্যে একটা টানাপড়েন চলছে বহু বছর ধরেই। কম মূল্যে আপনি কোনো পণ্য কিনতেই পারেন। কিন্তু পণ্যটি মানসম্মত কি না, তা দেখে নিতে হবে। তার বদলে সামান্য বেশি অর্থ খরচ করে মানসম্মত পণ্য কেনাই বুদ্ধিমানের কাজ। কাপড়ের ক্ষেত্রে কাপড়ের মান, সেলাই ও বোতামগুলো ভালোভাবে দেখে নিন।

৫. বেতন পাওয়ার পর
অনেকেই হাতে নগদ অর্থ থাকলে তা এক দমকে খরচ করে ফেলেন। এ সময় বিল পরিশোধ কিংবা প্রয়োজনীয় অন্যান্য কেনাকাটার কথা খেয়াল থাকে না। আপনি যদি কোনো মূল্যবান জিনিস কিনতে চান, তবে সেটার জন্য প্রতিদিন কিছু করে অর্থ সরিয়ে রাখুন। এতে জিনিসটা কেনার প্রয়োজনীয়তা ঠিকভাবে বুঝতে পারবেন।

৬. বিক্রয়কর্মীর চাপ
অধিকাংশ বিক্রয়কর্মী আপনাকে পণ্য বেছে কিনতে সাহায্য করলেও তাদের কেউ কেউ আপনাকে পরিকল্পনার বাইরে পণ্য কিনতেও চাপ দিতে পারে। এ কারণে নিজের প্রয়োজনের বিষয়টি আগে থেকে মাথায় রেখে তার পর কেনাকাটা করতে গেলে ভালো ফলাফল পাবেন। অন্য কেউ আপনাকে পরামর্শ বা চাপ দিলেও তা গ্রহণ করবেন কি না, তা আপনার বিষয়।

৭. রসিদ ও ট্যাগ সংরক্ষণ না করা
দোকান থেকে কোনো জিনিস কিনে বাসায় আনার কয়েক মিনিটের মধ্যেই আপনি কি সেগুলোর ট্যাগ ও রসিদ ছুড়ে ফেলে দেন? যদি তাই হয় তাহলে এ অভ্যাসটি আপনার পরিবর্তন করা প্রয়োজন। কোনো পণ্য অনেক সময় বাসায় নিয়ে দেখা যায়, সেটা সঠিক মানসম্মত নয় বা কোনো একটা অসঙ্গতি রয়েছে। এসব পণ্য দোকানে নিয়ে ফেরত দেওয়া বা পাল্টে অন্য কোনো পণ্য নেওয়া অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু রসিদ ও ট্যাগ সংরক্ষণ করলে এ সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

তথ্যসূত্র: কালেরকণ্ঠ