শাবানার সন্তানেরা কে কি করছেন?

215203

এক সময়ের জনপ্রিয় অভিনেত্রী শাবানা। এখনো তার অভিনীত সিনেমাগুলো কিংবদন্তী হয়ে আছে। সিনেমার বদৌলতে আমরা তাকে সবাই চিনি, কিন্তু বাস্তব জীবন সম্পর্কে কতটুকু জানি? শাবানার সন্তানদের সম্পর্কেই বা কতটুকু জানি?

শাবানার সন্তানেরা-

সিনেমায় কাজ করতে করতে হুট করে যুক্তরাষ্ট্রে চলে গেলেন কেন?

এ-লেভেল শেষে বড় মেয়ে সুমীকে উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হলো। এর এক বছর পর যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েল ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হলো ছোট মেয়ে উর্মি। তাঁরা আমাকে মিস করছিল।

দেশে আমার চোখের সামনেই ছিল, কাজের ফাঁকে দেখাশোনা করতে পারতাম। যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পর সেটা আর করা যাচ্ছিল না। মা হিসেবে কিছু দায়িত্ব-কর্তব্য আছে না?

তাই ছেলে নাহিনকে নিয়ে আমি আর ওয়াহিদ সাদিক চলে গেলাম। অভিনয় তো অনেক দিন করলাম। লাখো মানুষের ভালোবাসায় শাবানা হলাম। সন্তানদেরও তো সময় দেওয়া দরকার।

এত মানুষের ভালোবাসা ছেড়ে যেতে খারাপ লেগেছিল?

সিনেমার জগৎটাও আমার একটা পরিবার ছিল। রাত-দিন বিরতিহীনভাবে কাজ করেছি। সহশিল্পী, পরিচালক, এফডিসির পরিবেশটা মিস করিনি তা নয়। কিন্তু মানুষের জীবনে একটা সময় আসে, যখন আর কোনো উপায় থাকে না।

মানুষের জীবনের ধাপে ধাপে কিছু সময় আসে, যখন সময় বুঝে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। আমি নিজেকে খুবই ভাগ্যবতী মনে করি। আল্লাহ আমাকে সবদিক থেকে পরিপূর্ণ করেছেন।

আপনার সন্তানেরা কে কী করছেন?

সুমী ইকবাল এমবিএ ও সিপিএ করেছে। তবে এখন পুরোদস্তুর গৃহিণী। ছোট মেয়ে উর্মি সাদিক মাস দুয়েকের মধ্যে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি সম্পন্ন করবে। ছেলে নাহিন সাদিক রটগার্স বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স করে এখন ব্লুমবার্গে চাকরি করছে।

যুক্তরাষ্ট্রে আপনার সময় কাটে কীভাবে?

ওখানে তো সংসার ও বাইরের সব কাজ নিজেকেই করতে হয়। তাই ব্যস্ততা অনেক। তবে কাজের ফাঁকে ইন্টারনেট ঘেঁটে বাংলাদেশের খোঁজখবর রাখি। এসব করেই সময় কেটে যায়।

নিজের সিনেমা দেখেন?

টেলিভিশনে দেশের চ্যানেলে নিজের সিনেমা দেখলে খুব ভালো লাগে। পুরোনো স্মৃতিগুলো মনে পড়ে যায়।

এখনকার সিনেমার খোঁজখবর রাখেন?

শাকিব খানের সিনেমা টেলিভিশনে দেখেছি। কয়েক বছর ধরে তাঁর নাম শুনছি, অপু বিশ্বাসের কথাও শুনেছি। শুনলাম শাকিব নাকি এখন ভারতেও বেশ জনপ্রিয়। আমাদের দেশের শিল্পী ওই দেশে জনপ্রিয়, এটা শুনে খুব ভালো লেগেছে। এ ছাড়া পত্রিকার মাধ্যমে মাহী ও পরীমনির কথাও জেনেছি।

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে এবার আপনাকে আজীবন সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। কেমন লাগছে?

অনেক আনন্দ ও গর্ববোধ করি। এটা শুধু আমার একার নয়, আমার বাবা-মা, আমার পরিচালক, যাঁরা আমাকে তৈরি করেছিলেন এবং আমার দর্শকদের, যাঁরা আমাকে শাবানা বানিয়েছেন—সবার জন্য আনন্দের।