শ্রদ্ধাঞ্জলী: হুমায়ূন আহমেদের ৬৫তম জন্মদিন আজ

|রূপ-কেয়ার ডেস্ক|

rupcare_humayun ahmed

নন্দিত কথাসাহিত্যিক, চলচ্চিত্রকার ও নাট্যকার-নির্মাতা হুমায়ূন আহমেদের ৬৫তম জন্মদিন আজ। ১৯৪৮ সালের এই দিনে ময়মনসিংহের কুতুবপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। বাংলাদেশের মিডিয়া অঙ্গনে অন্যতম শক্তিশালী একটি জায়গা দখল করে আছেন তিনি। বাবা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা হওয়ার সুবাদে তাকে দেশের বেশ কয়েকটি অঞ্চলে থাকতে হয়েছে। এ কারণে তাকে স্কুল ও কলেজও পাল্টাতে হয়েছে ঘনঘন। তিনি গ্র্যাজুয়েশন শেষ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। তারপর পলিমার ক্যামিস্ট্র্রির উপর পিএইচডি ডিগ্রি নিয়ে যোগ দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যামিস্ট্রি বিভাগে শিক্ষকতার কাজে।

দীর্ঘদিন সম্পৃক্ত থাকার পর তিনি শিক্ষকতা ছেড়ে পুরোমাত্রায় সাহিত্য রচনায় মনোনিবেশ করেন। তার সাহিত্যিক জীবনে অসংখ্য জনপ্রিয় উপন্যাস রয়েছে। বাংলাদেশের পাঠককে ধরে রাখার ক্ষেত্রে তার যে অবদান তা সাহিত্যপ্রেমী মাত্রই বুঝতে পারেন। তার রচিত প্রতিটি বই পাঠক গ্রহণ করেছে সাদরে। তার রচিত উপন্যাস ও গল্প নিয়ে টেলিভিশন নাটক ও চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে। বিশেষ করে হিমু, মিসির আলী আর বাকের ভাইয়ের মতো চরিত্র তৈরিতে তিনি যে লেখনির দক্ষতা দেখিয়েছেন তাতে তাকে ও তার সৃষ্টিকে আজীবন মনে রাখবে পাঠক। হিমু সিরিজের বই, মিসির আলী সিরিজের বইসহ শ্রাবণ মেঘের দিন, অপেক্ষা, রূপার পালঙ্ক, লীলাবতী, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক রচনা জ্যোস্না ও জননীর গল্পসহ অসংখ্য সুপাঠ্য বই তিনি উপহার দিয়েছেন বাংলাদেশের পাঠকদের জন্য। তার বেশ বড় মাপের অবদান রয়েছে বাংলাদেশের নাট্যজগতে। তার রচিত অনেক উপন্যাস ও গল্প নিয়ে রচিত হয়েছে নাটক। এর মধ্যে অনেকগুলোই তার চিত্রনাট্যে তৈরি হয়েছে। উল্লেখ্যযোগ্য এ ধারাবাহিক ও একক নাটকের মধ্যে রয়েছে ‘এইসব দিনরাত্রি’, ‘অয়োময়’, ‘বহুব্রীহি’ ‘কোথাও কেউ নেই’ প্রভৃতি। যেগুলোর কথা পাঠক চিরদিন মনে রাখবে। তার রচিত উপন্যাস অবলম্বনে বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে। এগুলো হচ্ছে ‘আগুনের পরশমনি’, ‘আমার আছে জল’, ‘শঙ্খনীল কারাগার’, ‘চন্দ্রকথা’, ‘দুই দুয়ারি’, ‘দূরত্ব’, ‘দারুচিনি দ্বীপ’, ‘নয় নম্বর বিপদ সংকেত’, ‘নন্দিত নরকে’, ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’, ‘প্রিয়তমেষু’। তার সর্বশেষ চলচ্চিত্র ‘ঘেটুপুত্র কমলা’।

হুমায়ূন আহমেদ তার অনবদ্য রচনা ও চিত্রনাট্য ও পরিচালনার জন্য অসংখ্য পুরস্কার পেয়েছেন বিভিন্ন মাধ্যম থেকে। এর মধ্যে বাংলা একাডেমী পুরস্কার, একুশে পদক, শিশু একাডেমী পুরস্কার, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, বাকসাস পুরস্কার, লেখক শিবির পুরস্কার, জয়নুল আবেদীন স্বর্ণপদক প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। ২০১০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তার অন্ত্রে ক্যান্সার ধরা পড়ে। এরপর চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০১২ সালের ১৯শে জুলাই আমেরিকার নিউ ইয়র্কে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

জন্মদিনের নানা আয়োজন
প্রতি বছরের মতো এবারও হুমায়ূন আহমেদের জন্মদিনে নুহাশপল্লী সাজবে ভিন্ন সাজে। আজ সন্ধ্যায় মোমবাতি দিয়ে পুরো নুহাশপল্লীকে সাজানো হবে। এ প্রসঙ্গে মেহের আফরোজ শাওন বলেন, মোমবাতি প্রজ্বলনের মাধ্যমে স্মরণ করা হবে হুমায়ূন আহমেদকে। হুমায়ূন আহমেদ বেঁচে থাকতে প্রতিবছরই পরিবারের সবাই মিলে তার জন্মদিনে নুহাশপল্লীতে মোমবাতি প্রজ্বলন করা হতো। সে ধারাবাহিকতায় এবারও মোমবাতি প্রজ্বলন করা হবে। তবে হরতালের কারণে হুমায়ূন আহমেদের স্ত্রী শাওন ও তার সন্তানরা নুহাশপল্লীতে যাচ্ছেন না। মোমবাতি প্রজ্বলন ছাড়াও আজ বিকালে সেখানে মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।

হুমায়ূনের নিজ হাতে গড়া শহীদ স্মৃতি বিদ্যাপীঠেও থাকছে হুমায়ূন স্মরণে নানা আয়োজন। শাওনের ব্যক্তিগত সহকারী মো. ইব্রাহীম বলেন, স্যারের জন্মদিনে তার প্রতিষ্ঠিত স্কুলে মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়া প্রতিটি শ্রেণীকক্ষেই হুমায়ূন আহমেদের জীবনদর্শন শিক্ষার্থীদের অবহিত করা হবে। মিলাদ মাহফিলে শহীদ স্মৃতি বিদ্যাপীঠের অধ্যক্ষ কলামিস্ট এমএ সালেহ চৌধুরী, গভর্নিং বোর্ডের সদস্যসহ সব শিক্ষার্থী উপস্থিত থাকবেন। উল্লেখ্য, নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুর গ্রামে প্রায় ৩ একর জায়গার ওপর ১৯৯৬ সালে শহীদ স্মৃতি বিদ্যাপীঠ প্রতিষ্ঠা করেন হুমায়ূন আহমেদ। আজ হুমায়ূন আহমেদের জন্মদিনে তার স্মৃতিবিজড়িত নানার বাড়ি নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলায় ‘হুমায়ূন চত্বর’-এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হবে। স্থানীয় সংগঠন ‘মুক্তস্বর’-এর উদ্যোগ ‘হুমায়ূন চত্বর’-এ হুমায়ূন আহমেদের একটি স্মারক ভাস্কর্য, মিলনায়তন, সাংস্কৃতিক চর্চা কেন্দ্র ও একটি সমৃদ্ধ লাইব্রেরি গড়ে তোলা হবে। ‘হুমায়ূন চত্বর’-এর জন্য নির্বাচিত জায়গাটি দিচ্ছেন হুমায়ূন আহমেদের ছোট মামা মোহনগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মাহবুবুন্নবী শেখ। এ প্রসঙ্গে শাওনের ব্যক্তিগত সহকারী মো. ইব্রাহীম বলেন, হূমায়ূন স্যারের মামাবাড়ির সামনে চত্বরটি হবে। এখানে শিয়ালজানী খালের একটা অংশ লেক আকারে সাজানো হবে এবং একটা লাইব্রেরি ও সাংস্কৃতিক মিলনায়তন গড়ে তোলা হবে। হুমায়ূন স্যারের মামা মাহবুবুন্নবী শেখ এজন্য জমি দান করেছেন।

এছাড়াও হুমায়ুনের জন্মদিনে বিভিন্ন সংগঠন নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে হুমায়ূন ভক্তদের ফেসবুকভিত্তিক সংগঠন ‘হিমু পরিবহন’ আয়োজন করেছে নানা অনুষ্ঠান।

তথ্যসূত্র: মানবজমিন

facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedin