সঠিক সংরক্ষণে বাড়িয়ে নিন শাকসব্জির গুণাগুণ

|রূপ-কেয়ার ডেস্ক|

আমরা জানি শাকসব্জিতে প্রচুর পুষ্টিগুণ রয়েছে। বিভিন্ন রোগ নিরাময়, শরীরকে ফিট রাখতে এমনকি রূপ-সৌন্দর্য ধরে রাখতেও এদের ভূমিকা অনন্য। কিন্তু আমরা শাকসব্জি থেকে সঠিক পুষ্টি পাচ্ছি কিনা তা কি কখনো ভেবে দেখেছেন? নতুন এক গবেষণায় বলা হচ্ছে শাকসব্জির গুণাগুন অক্ষুন্ন থাকে এর সঠিক সংরক্ষণের উপর। কারণ ফসল তোলার পরেও সেগুলোর মধ্যে যেহেতু বিভিন্ন রাসয়নিক উপাদান সক্রিয় থাকে, সংরক্ষণ ঠিকমতো না হলে সেগুলোর কার্যকারীতা নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

আমেরিকার রাইস বিশ্ববিদ্যালয়ের জৈবরসায়ন ও কোষ-জীববিজ্ঞানের অধ্যাপক ডঃ জ্যানেট ব্রাউন বলছেন বাঁধাকপি, ফুলকপির মত বেশ কিছু সব্জির ওপর পরীক্ষা চালিয়ে তারা দেখেছেন সেগুলো কেটে ফেলার পরেও তাদের মধ্যে কোষগুলো সজীব ও সক্রিয় অবস্থায় থাকে।

দিনের বেলা বা রাতের বেলা পোকামাকড়ের আক্রমণ ঠেকাতে তারা নির্দিষ্ট কিছু রাসয়নিক পদার্থ উৎপন্ন করে। ফসল তোলার পরে সব্জি মজুত রাখার সময় তা আলো আর অন্ধকারে নির্দিষ্ট সময় ধরে রাখতে পারলে তারা ওই একই রাসয়নিক তৈরি করতে সক্ষম হয়। অর্থাৎ দিন ও রাতের চক্রের প্রভাব যদি শাকসব্জির ওপর পরে তবেই আমরা তার থেকে সঠিক গুণাগুণ পেতে পারি।

পোকামাকড়ের আক্রমণ ঠেকাতে এধরনের সব্জি গ্লুকোসিনালেট নামে একধরনের রাসয়নিক তৈরি করে যার ক্যান্সার প্রতিরোধক কিছু গুণ আছে।

জ্যানেট ব্রাউন আরো বলছেন এধরনের সব্জি যদি রান্নাঘরে এমন জায়গায় রাখা হয় যেখানে আলো- আঁধারের নির্দিষ্ট চক্র রয়েছে, অর্থাৎ দিনের বেলা এগুলোর ওপর আলো এবং রাতে অন্ধকার থাকতে হবে। তাহলে বাঁধাকপি, ফুলকপির মত সব্জি এই রাসয়নিক উৎপন্ন করবে। গবেষণা করে জানার চেষ্টা করা হচ্ছে যে, আলো আর অন্ধকারের তীব্রতা ঠিক কোন্‌ মাত্রায় থাকলে সবচেয়ে বেশি গ্লুকোসিনালেট তৈরি হবে তাহলে শুধুমাত্র সব্জি কোথায় রাখা হচ্ছে সেটা বিবেচনায় নিয়ে এর থেকে খাদ্যগুণের সর্বোচ্চ সুফল পাওয়া সম্ভব।

তাহলে সেই দিন আর বেশি দূরে নয় যে আমরা সঠিক সংরক্ষণের মাধ্যমে শাকসব্জি হতে আরো বেশি উপকৃত হবো।

শেয়ার করতে নিচের বাটনে ক্লিক করুন…