সম্পর্কে বয়সের ব্যবধান; যেভাবে মানিয়ে চলবেন

|রূপ-কেয়ার ডেস্ক|

দু’জনার মধ্যে যদি ভালো একটি সম্পর্ক তৈরি হয়ে যায়, তাহলে বয়সের দূরত্বটা কিছুই মনে হয় না। মনে হয় না যে দু’জন দু’জনার বয়সে অনেক ছোট কিংবা বড়।

কণা ও হাসান দু’জন ছিল দু’প্রান্তের মানুষ। কোনো একদিন হাসানের ফোনে কণার কল আসে। হাসান ফোন রিসিভ করতেই সুন্দর একটি কণ্ঠ ভেসে এলো। কণা তার এক আত্মীয়ের কাছে ফোন করতে গিয়ে চলে যায় হাসানের নম্বরে। এরপর দু’জনের কিছু কথা হওয়ার পর আবারও কৌতূহলবশত হাসান কণাকে ফোন দিল। তারপর হাসান তার সঙ্গে ফ্রেন্ডশিপ করার প্রস্তাব দেয়। কণাও রাজি হয়ে যায়।

প্রথম প্রথম একটু- আধটু কথা, এরপর কথার পরিধি বাড়তে লাগল। দু’জনার বন্ধুত্ব ক্রমে অনেক গভীরে এগিয়ে চলে। এরপর কণা ও হাসান দু’জনই দু’জনকে ভালোবাসতে শুরু করে। দুু’জনের কেউই তখন ভাবে না যে, তাদের এ সম্পর্কে বয়স একটি বাধা হতে পারে। কারণ হাসান তখন মাস্টার্স শেষ করে বছরখানেক হলো চাকরি করছে। অন্যদিকে কণা সবেমাত্র নবম শ্রেণীতে পড়ছে। তাই দু’জনার বয়সের পার্থক্যটাও অনেক। তবু দু’জন দু’জনকে পাওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। দু’জন দু’জনকে খুব ভালোবাসে। তারা তাদের বয়স নিয়ে কোনো রকম চিন্তাই করে না। তারা ভাবে, দু’জনার মধ্যে মিল থাকলে বয়সটা কিছুই নয়। এই ভেবে দু’জনই একদিন পালিয়ে বিয়ে করে ফেলে।

বিয়ের পর কণা প্রথম প্রথম কিছু মনে করেনি; কিন্তু অন্য কেউ যদি হাসানকে দেখত, তাহলে অনেক সমালোচনা করত তার বয়স নিয়ে। এ নিয়ে কণা পড়ে যেত টেনশনে। কারণ বিয়ে করে বাড়িতে নিয়ে আসার পর কণা ও হাসানের বাবা-মা বিষয়টি মেনে নিতে পারেননি শুধু তাদের বয়সের পার্থক্যটা অনেক বেশি বলে। কিন্তু কী আর করা, তারা বিয়ে করে ফেলেছে, ফলে এখন মানিয়ে নিয়ে তো চলতেই হবে। আবার অনেকে বলে, আমরা কি দু’জনে সেট হতে পারব? সবাই এটাই ভাবতে শুরু করে। কিন্তু কণা ভাবে, সে হাসানকে ভালোবেসে বিয়ে করেছে। তাই তাদের দু’জনের মধ্যে তেমন কোনো সমস্যা হবে না বয়স নিয়ে। এটা ভেবে কণা বেশ সুখেই থাকল;

কিন্তু মাঝে মধ্যে কোনো আত্মীয়-স্বজন বা বন্ধুবান্ধবের কথা শুনলে তারা দু’জনই খুব কষ্ট পেত। যেখানেই তারা বেড়াতে যেত, সবার চোখ পড়ত তাদের ওপর। সবাই এমনভাবে তাকিয়ে তাদের দেখত যে, তারা যেন কোনো ভিন গ্রহ থেকে এসেছে। আবার অনেকে এমন সব মন্তব্য করত, যা শুনে চোখে জলও এসে যেত। হাসানও লজ্জায় পড়ে যেত এবং কী যেন ভাবত! বয়সের দূরত্বকে দু’জনই যদি স্বাভাবিক মনে করে আর একে অপরের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক বজায় রেখে চলে, তাহলে সমালোচনার মধ্যেও ভালো থাকা সম্ভব।

বিয়ের পর সুন্দর একটি সম্পর্ক যদি গড়ে ওঠে দু’জনার মাঝে, তাহলে সেখানে বাইরের কোনো ব্যক্তির মন্তব্য গুরুত্ব না পাওয়ারই কথা। সব বিষয় নিজেদের মধ্যে রাখতে পারলে ভালো। আর অন্য কোনো ব্যক্তির কথা নিয়ে দু’জনার মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি করবেন না।

দু’জনার বয়স নিয়ে কেউ কোনো সমালোচনা করলে সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবাদ করার চেষ্টা করুন। তা না হলে অন্যরা আরও বেশি পেয়ে বসবে। তখন দু’জনার মধ্যে সমস্যা সৃষ্টি হবে। অনেক সময় বাইরের লোকের এসব কথা নিজেদের সুখের মুহূর্তগুলোকে অসহ্য করে তোলে। তাই বয়স নিয়ে চিন্তা না করে সব সময় ভালো থাকার চেষ্টা করুন। আপনারা দু’জন দু’জনার সঙ্গে এমন আচরণ করুন, যাতে দু’জন দু’জনকে কতখানি ভালোবাসেন তা বুঝতে পারেন। তা না হলে যে কোনো একজন হয়তো নেগেটিভভাবে নিতে পারে তাদের বয়সের ব্যাপারটি।

বয়সের দূরত্বকে কখনোই বড় না ভেবে দু’জনই সব সময় নানা রকম মজার বিষয় নিয়ে মেতে থাকুন। আর সবচেয়ে যে কথাটি বেশি মনে রাখবেন সেটি হলো, কোনো সময় মনোমালিন্য হলে বয়সের কথা তুলবেন না। এতে অশান্তির মাত্রা আরও বেড়ে যেতে পারে। দু’জন সব সময় এমনভাবে চলার চেষ্টা করুন যাতে দু’জনার মধ্যে বয়স বলে যে কোনো একটি দূরত্ব আছে তা না বোঝা যায়। তাহলেই সংসার সুখে থাকবে।

তথ্যসূত্র: সমকাল শৈলী