হাড় ভাঙ্গা নিয়ে যে ভুল তথ্যগুলো বিশ্বাস করছেন আপনি

হাড় ভাঙ্গা একটি গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা। দুর্ঘটনায় বা
অসাবধানতাবশত আঘাতে হাড় ভেঙ্গে গেছে এমনটা মনে হলে সাথে সাথেই ডাক্তার দেখানো উচিত। কিন্তু হাড় ভাঙ্গা নিয়ে কিছু ভুল ধারণা থাকায় অনেকেই তা করেন না, এর ফলে ভাঙ্গা হাড় ঠিকভাবে সারে না এবং তাদেরকে লম্বা সময় ধরে ভুগতে হয়। দেখে নিন, হাড় ভাঙ্গা নিয়ে এসব ভুল ধারণা আপনারও নেই তো?

১) নড়াচড়া করতে পারলে হাড় ভাঙ্গেনি

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, হাতের আঙ্গুলে খুব ব্যথা পেয়েছেন, কিন্ত আঙ্গুল নাড়াতে পারছেন মানে তা ভাঙ্গেনি। এটাই বিশ্বাস করেন অনেকে। কিন্তু তা ঠিক নয়! অনেক সময়েই হাড় ভেঙ্গে গেলেও তা নাড়ানো যায়। হাড় ভেঙ্গে যাবার তিনটি লক্ষণ হলো- ব্যথা, ফুলে যাওয়া এবং অঙ্গটি অস্বাভাবিকভাবে বেঁকে থাকা। এছাড়া ব্যথা পাওয়ার সময়ে কট করে শব্দ হলেও বুঝতে হবে হাড় ভেঙ্গে গেছে।

২) হাড় ভাঙ্গলে প্রচণ্ড ব্যথা হয়

প্রচণ্ড ব্যথা নেই, তারমানে হাড় ভাঙ্গেনি। ধারণাটি ঠিক নয়। অনেক সময়ে হাড়ে ফ্র্যাকচার হলেও ব্যথা সাথে সাথে টের পাওয়া যায় না।

৩) বয়স্ক নারীদের হাড় সহজে ভাঙ্গে

মেনোপজের পর নারীদের সহজেই অস্টিওপোরোসিস হতে পারে শরীরে হরমোনে পরিবর্তনের কারনে। অস্টিওপোরোসিসের ফলে হাড় পাতলা হয়ে যায়। তারমানে এই নয় যে পুরুষদের বা কমবয়সী মানুষের হাড় ভাঙ্গার ঝুঁকি কম। অস্টিওপোরোসিস থাকলে যে কোনো বয়সের মানুষেরই সহজে হাড় ভাঙ্গতে পারে।

৪) পায়ের ভাঙ্গা আঙ্গুলের জন্য ডাক্তার দেখানোর দরকার নেই

পায়ের আঙ্গুলে ভাঙ্গলে ডাক্তাররা সাধারণত প্লাস্টার করেন না, তাই অনেকেই ভাবেন এক্ষেত্রে ডাক্তার দেখানোর দরকার নেই, এমনিই সেরে যাবে। কিন্তু এক্ষেত্রেও চিকিৎসা নেওয়া উচিৎ। যে আঙ্গুলটি ভেঙ্গে গেছে তা সাধারণত দুইপাশের আঙ্গুলের সাথে টেপ দিয়ে আটকে রাখা হয় এবং তা সারতে চার থেকে ছয় সপ্তাহ সময় নেয়। আবার হাড় ভেঙ্গে ত্বক ছিঁড়ে বের হয়ে গেলে আরও বেশ চিকিৎসা নিতে হতে পারে। তাই আঙ্গুলে ব্যথা পেলে যদি সন্দেহ হয় তা ভেঙ্গে গেছে, তাহলে ডাক্তার দেখানোই উচিৎ।

৫) হাড় জোড়া লাগার পর তা আরও শক্ত হয়ে যায়

হাড় জোড়া লাগার সময়ে একে ঘিরে শক্ত একটি স্তর তৈরি হয়, ফলে কিছু সময় আসলেই সাধারণ হাড়ের তুলনায় এই জোড়া লাগা হাড়টি বেশি শক্ত থাকে। কিন্তু কয়েক বছরের মাঝেই এই শক্ত স্তর সরে যায়, আর হাড়টি সাধারণ অবস্থায় ফেরত আসে।

সুত্র: বিবিসি